Inqilab Logo

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবন ১৪৩১, ১০ মুহাররম ১৪৪৬ হিজরী

১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীন ভোলা জেলার মানববন্ধন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

ভোলা জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৪ নভেম্বর, ২০২২, ২:৩৫ পিএম | আপডেট : ২:৪৯ পিএম, ১৪ নভেম্বর, ২০২২


শিক্ষা সিলেবাস থেকে ইসলামি শিক্ষা তাহজীব তামাদ্দুন ধ্বংসের চক্রান্ত, মাদরাসার পাঠ্যপুস্তকে বিজাতীয় সাংস্কৃতির অন্তর্ভুক্তি, মাদরাসা শিক্ষার মধ্যেও হিন্দুত্ববাদী শিক্ষা সংযোজন করে ইসলামি ও মাদরাসা শিক্ষার স্বতন্ত্র ও বৈশিষ্ট্য নষ্টের গভীর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ এবং মাদরাসার জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন সহ ১৩ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে মাদরাসা শিক্ষকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীনের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী হিসেবে ভোলা জেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীন সকাল ১১ ঘটিকায় ভোলা সদর কে,জাহান শপিং কমপ্লেক্সের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচী পালন করেন।
মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীন ভোলা জেলা সভাপতি ও করিমজান মহিলা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আবদুল খালেকের। সভায়
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও দিক নির্দেশনামুলক বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব, ভোলা জেলা জমিয়াতুল মোদারেছিনের সাধারণ সম্পাদক ও ভোলা দারুল হাদিস কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসার উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ মোবাশ্বিরুল হক নাঈম।
বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীন ভোলা জেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা সভাপতি এবং বোরহানউদ্দিন কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহাম্মদ উল্লাহ আনছারী,
জেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীনের সহ সভাপতি ও লালমোহন উপজেলা সভাপতি এবং লালমোহন কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ মোশারেফ হোসেন,
জেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চরফ্যাশন উপজেলা সভাপতি এবং হাজারীগন্জ হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ মঈনউদ্দীন,
জেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীনের সহ সভাপতি ও দৌলতখান উপজেলা সভাপতি এবং দিদারুল্লাহ ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুছ ছামাদ, দৈনিক আজকের ভোলার সম্মাদক আলহাজ্ব মুহাম্মদ শওকত হোসেন,
বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা বোর্ডের ভোলা জেলা সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা আতাউর রহমান মোমতাজী,
বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ ভোলা জেলা সভাপতি মাওলানা মোঃ মিজানুর রহমান,
ভোলা জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি ও পরানগন্জ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার আলহাজ্ব মাওলানা মীর মোঃ বেলায়েত হোসেন,
তানজিমুল কোরআন মাদরাসা ভোলার পরিচালক মাওলানা তরিকুল ইসলাম তারিক,
ভোলা জেলা মুসলিম ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান খান তালুকদার,
বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীন দৌলতখান উপজেলার সম্পাদক আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুর রহিম ,
জেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীনের সহ সাধারণ সম্পাদক ও মনপুরা উপজেলা সভাপতি এবং মনপুরা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ অজিউল্লাহ ফরহাদ,
ভোলা সদর উপজেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীনর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আবদুল লতিফ,
বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীন চরফ্যাশন উপজেলা সম্পাদক ও কুচিয়া মোড়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মোঃ কামরুজ্জামান,
ভোলা জেলা ঈমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ নুরে আলাম, চরমাদ্রাজ ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোঃ নিজাম উদ্দিন শরমান,
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বোরহানউদ্দিন উপজেলা ও সুপার শিবপুর দারুল আমান দাখিল মাদরাসার সুপার মাঃ মোঃ ইদ্রীস,
জেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীনের প্রচার সম্পাদক ও রমাগন্জ তোফায়েলিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মোঃ হোসেন,
ভোলা সদর উপজেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীনের সেক্রেটারি ও দক্ষিণ কোড়ালিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মোঃ হারুন,
তজুমুদ্দীন উপজেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীনের সভাপতি ও পূর্ব গোলকপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আইয়ুব আলী,
লালমোহন উপজেলা জমিয়াতুল মোদাররেছিনের সম্পাদক ও চতলা হাসেমিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুজাফর মোঃ মাঈনুদ্দীন,
পাঙ্গাশিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মোঃ আমির হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন ৯১ ভাগ মুসলমানের দেশে পাশ্চাত্য ও দেব-দেবীর বিশ্বাস ও তাদের আরাধনার শিক্ষা সংস্কৃতির আদলে তৈরি বইগুলো যা স্কুলের জন্যও উপযোগি নয় সে সকল বই মাদ্রাসায় পাঠ্যপুস্কক হিসেবে গ্রহন ও ব্যবহারের প্রশ্নেই আসেনা।তারা বলেন সরকারের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা একটি কুচক্রিমহল, যারা নাস্তিক মুরতাদের দোসর, ইসলামের শত্রু তারাই
এধরনের পাঠ্যপুস্তক মাদরাসায় পাঠদানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক বাস্তবায়ন করার অপচেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যা ৯১% মুসুলমানের দেশে কখনওই বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। এধরনের অগ্রহনযোগ্য নির্দেশ সরকার কর্তৃক প্রেরিত হলে, মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সকল অর্জনকে ম্লান করে দিবে, যা কোন অবস্থাতেই মেনে নেয়া যায় না।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরীর মাধ্যমে জেলা নেতৃবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে দাবী করেন
১.মাদরাসা শিক্ষার জন্য এ সরকারের প্রণীত ও জাতীয় সংসদে গৃহীত জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০১০ এ বর্ণিত মাদরাসা শিক্ষার স্বকৃয়তা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণের উপযোগী স্বতন্ত্র শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচী এবং পাঠ্যবই, NCTB, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও জমিয়াতুল মোদাররেছীনের বিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ আলেমদের সমন্বয়ে প্রণয়ন করার বিকল্প নেই। অনতিবিলম্বে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করে এ কাজ শুরু করতে হবে।
২. দাবীকৃত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবই প্রণয়নের পূর্বপর্যন্ত প্রচলিত পাঠ্যপুস্তকসমূহ পাঠদান অব্যাহত রাখতে হবে।
৩.সাধারন শিক্ষায় SSC পরীক্ষা দশটি বিষয়ে ১০০০ নম্বরের অনুষ্ঠিত হবে। মাদরাসা শিক্ষার জন্য মূল বিষয় ঠিক রেখে সমন্বয় সাধন করে ১০০০নম্বর নির্ধারণ করতে হবে।
৪.বেসরকারি সকল স্তরের শিক্ষক-কর্মচারীগণের চাকুরী জাতীয়করণ করতে হবে।
৫. সংযুক্ত ইবতেদায়ী প্রধান সহ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের উপযুক্ত বেতন/ভাতা প্রদান করতে হবে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যায় স্বতন্ত্র ও সংযুক্ত ইবতেদায়ী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, টিফিনসহ সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হবে।
৬. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত ২০১৮ সালে প্রণিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার নীতিমালা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা মঞ্জুরীর ১৪বছরের অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে হবে।
৭. মহিলা কোটা শিথিল ও সংশোধনপূর্বক যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. আরবি প্রভাষকগণের উচ্চতর পদে আসীন হওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৯.অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আরবি প্রভাষকদের জন্য পথ উন্মুক্ত করতে হবে।
১০. কামিল পাশ সহকারী মৌলভীদের উচ্চতর স্কেলের ব্যবস্থা করতে হবে।
১১.মাদরাসা শিক্ষকগণের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউট স্থাপন করতে হবে।
১২. মাদরাসার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮(২৩ নভেম্বর পর্যন্ত সংশোধিত) স্কুল ও কলেজের নীতিমালা ২০২১ এর সাথে সমন্বয় করে মাদরাসার অনার্স স্তরের জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করতে হবে।
১৩. প্রায় দুই হাজার শিক্ষকের ইনক্রিমেন্ট কর্তন করা হয়েছে যা অমানবিক। অনতি বিলম্বে বকেয়াসহ প্রাপ্য ইনক্রিমেন্ট প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
ভোলা জেলার সাতটি উপজেলার সকল মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারী এবং ভোলা সদর উপজেলার সকল মাদরাসার হাজার হাজার শিক্ষার্থীগণ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেন। সকাল ১১ঘটিকায় মানববন্ধনের কর্মসূচী ঘোষনা হলেও সকাল থেকেই পুরো শহর মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীদের পদ চারনায় মুখরিত হয়ে উঠে।
সঞ্চালনা করেন মাওলানা মোঃ শামছুল আলম চৌধুরী সুপার নাছির মাঝি দাখিল মাদরাসা
ও মাওলানা মোঃ আমিনুল হক নোমানী মুহাদ্দিস ভোলা দারুল হাদিস কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জমিয়াতুল মোদার্রেছীন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ