পশ্চিম তীরে সহিংসতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ
জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনের
নভেল করোনাভাইরাসের কারণে কর্মসংস্থান হারিয়েছে আফগানিস্তানের বহু মানুষ। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধকবলিত আফগানরা এমনিতেই আর্থিকভাবে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় ভাইরাসের সংক্রমণ তাদের আরো গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে। ফলে বেঁচে থাকতে নগদ অর্থের খোঁজে তারা এ বছর অনেকটা বাধ্য হয়েই আফিম চাষে ঝুঁকছে। খবর এএফপি। বিশ্বে আফিম উৎপাদনে বহু আগে থেকেই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটি আফিমের বৈশ্বিক চাহিদার ৮০ শতাংশ সরবরাহ করার পাশাপাশি বহু মানুষের কর্মসংস্থানেরও উৎস। চলতি বছর মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে জারীকৃত লকডাউন ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বিশ্বের অন্য সব দেশের মতো আফগানিস্তানের বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে থমকে দেয়। বাধ্য হয়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটতে বাধ্য হয় বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যা সংঘাতক্লিষ্ট দেশটিতে কর্মসংস্থান পরিস্থিতির আরো অবনমন ঘটায়। আর এ অবস্থায় জীবিকার তাগিদে পপি উৎপাদনে যুক্ত হচ্ছে কর্মহীন আফগানরা। উরুজগান প্রদেশের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী ফাজিলি জানান, তিনি পেশায় ম‚লত একজন মেকানিক। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি তাকে বেকারে পরিণত করেছে। অথচ তার ১২ সদস্যের পরিবারে একমাত্র তিনিই ছিলেন উপার্জনকারী। বর্তমানে তার কোনো সঞ্চয় অবশিষ্ট নেই। তাই অন্য কোনো উপায় না দেখে কিছু অর্থ উপার্জনের জন্য পপিক্ষেতে কাজে যোগ দিয়েছেন। আফগান পপিচাষীরা সাধারণত মৌসুমি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু করোনার সংক্রমণ এবার প্রথাগত শ্রমিক সংকট সৃষ্টি করেছে। জুনে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার পপি চাষে আফগানিস্তানে শ্রমিক সংকট দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধের কারণে পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশে এ সংকট তীব্র হয়েছে। আর এ সুযোগ নিচ্ছে কর্মহীন আফগানরা। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নগদ অর্থের জন্য পপিক্ষেতে কাজে যোগ দেয় দেশটির শিক্ষার্থীরাও। কয়েক বছর ধরেই পপি চাষ নিরুৎসাহিত করতে আফগানিস্তানে বিস্তর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরও আফগান কৃষকরা যেন কিছুতেই আফিম উৎপাদন ছাড়তে পারছেন না। এ ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় এ থেকে মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা ও তালেবানরা। ম‚লত আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি পপি উৎপাদন হয় তালেবান নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণাঞ্চলে। এছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে প‚র্বাঞ্চলীয় সীমান্তেও এটি চাষ হয়। তালেবানরা বহু আগে থেকেই পপিচাষী ও পাচারকারীদের ওপর কর বসিয়ে লাভবান হচ্ছে। এমনকি তাদের নিজেদের মাদক তৈরির কারখানাও রয়েছে, যেগুলোয় পপি থেকে মরফিন ও হেরোইন তৈরি করা হয়। এ অবস্থায় গত এক দশকে আন্তর্জাতিক দাতারা আফগানিস্তানে মাদকবিরোধী প্রচারণায় কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে। এর মধ্যে পপিচাষীদের জাফরানের মতো অর্থকরী ফসল চাষে উৎসাহিত করতে হাতে নেয়া হয় বেশকিছু কার্যক্রম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগই যেন পপিচাষীদের নিরুৎসাহিত করতে পারছে না। প‚র্ব নানগারহার প্রদেশের খোগিয়ানি জেলার বাসিন্দা মুসাফির বলেন, লকডাউনের মধ্যে আমাদের কোনো কর্মসংস্থানই ছিল না। ফলে বহু মানুষ, বিশেষ করে আমার আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসী মিলে পুনরায় পপি চাষ শুরু করেছে। দক্ষিণ কান্দাহার প্রদেশের গভর্নর হায়তুল্লাহ হায়াত বলেন, গত ১৮ বছরে জোরপ‚র্বক পপি চাষ নির্ম‚লের নীতি কাজে আসেনি। দুর্ভাগ্যবশত চলতি বছর এখানে পপি চাষ আরো বেড়েছে। আফগানিস্তান কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া মারা গেছে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ। তবে গত মাসে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প‚র্বাভাসে জানিয়েছিল, আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে। কিন্তু তার পরও দেশটির কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ধীরে ধীরে লকডাউন শিথিলের উদ্যোগ নিয়েছে। ম‚লত দীর্ঘ কয়েক মাসের লকডাউন শেষে গত মাস থেকেই পুনরায় সরকার পর্যায়ক্রমে কিছু বিদ্যালয়, বিয়ের হল ও বাজার খুলে দিতে শুরু করে। এএফপি।
দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।