Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার , ১ জুন ২০২৩, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১১ যিলক্বদ ১৪৪৪ হিজরী

সরকারকে গদি থেকে টেনে নামানো হবে : বিএনপি

মহানগরগুলো যেন মিছিলের নগরী ১১ মার্চ সারাদেশের মহানগর ও জেলা পর্যায়ে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা : বিভিন্ন স্থানে হামলা, গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ মার্চ, ২০২৩, ১২:০১ এএম

সরকার পতনের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে রাজপথে কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি ও তাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট। বিক্ষোভ সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি, পদযাত্রা, মানববন্ধন একের পর এক কর্মসূচি নিয়ে কি শহর কি গ্রাম সর্বত্রই ছুটে বেড়াচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। দিনে দিনে প্রতিটি কর্মসূচিতে নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উজ্জীবিত শীর্ষ নেতারাও ঘোষণা করছেন লাগাতার কর্মসূচি। ইতোপূর্বে ইউনিয়ন, থানা, মহানগর, জেলা পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি করেছে বিএনপি। চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপণ্য এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মানুষের অধিকার হরণ, নৈরাজ্য সৃষ্টি, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা, কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও পুলিশের গুলিতে বিএনপির নেতা-কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে গতকাল শনিবার দেশের মহানগরগুলোর সব থানায় পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। প্রতিটি থানায় দলটির পদযাত্রা কর্মসূচিতে মহানগরগুলো যেন মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। এই কর্মসূচি থেকেই আগামী ১১ মার্চ সারাদেশের মহানগর ও জেলা পর্যায়ে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে গতকাল বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এছাড়া যুবদলের সাবেক সভাপতিসহ বেশ কিছু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। গতকাল বেলা তিনটার দিকে তেজগাঁও এলাকা থেকে যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তুরাগ থানায় পদযাত্রা কর্মসূচিতে আওয়ামী ছাত্রলীগ হামলা করে বলে অভিযোগ করা হয়। রুপনগর থানা এলাকায় হামলায় ৭ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। ভাটারায় গ্রেফতার করা হয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী, সুলতান হোসেন, জাহাঙ্গীর বিশ^াসকে। কামরাঙ্গীরচরে বিএনপি নেতা রাকিব, খিলগাঁওয়ে হুমায়ুন কবির, বিএনপি’র সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়ার গাড়ী ভাংচুর, মহানগর উত্তর বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক মোস্তফার বাসভবনে হামলা, ভাংচুর, ২৫ জনের অধিক নেতাকর্মীকে আহত করা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর আইন শৃৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হামলা, গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঢাকায় রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার পদযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সরকারকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, এবার আর কোনো তামাশার নির্বাচন ও আওয়ামী লীগের অধীনে কোন নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করছে, গত দুটি নির্বাচন তারা যেভাবে করেছে, এভাবেই আবার নির্বাচন করবে। এভাবেই জনগণকে আবার শোষণ করবে, দেশের সম্পদ লুট করবে। কিন্তু এবার আর তা মানুষ হতে দেবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন হলে সেই নির্বাচন যে কখনো অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না, সেটা গত দুটি নির্বাচনে দেখেছি। তাই সবার আগে সরকারকে পদত্যাগ ও সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার গঠন করতে হবে। এসব দাবিতে মানুষ রাজপথে নেমে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল আন্দোলন করছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল সবাইকে এ আন্দোলনে অংশ নিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই আন্দোলন বিএনপিকে ক্ষমতায় নিতে নয়, জনগণের অধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলন।

মামলার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, কথায় কথায় মামলা দেয়, মিথ্যা মামলা দেয়। রাতে বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এই ভয় দেখিয়ে কি আমাদের লাভ আছে? বিগত ১৫ বছর ধরে আন্দোলনে আছি ও থাকব। ছয় শতাধিক কর্মীকে গুম করে, হাজার খানেকের ওপরে হত্যা করেও বিএনপিকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারেনি। সব বাধা অতিক্রম করেই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সরকার দেশ চালাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তারা অর্থনীতিতে সংস্কার আনতে, অর্থনীতিকে চালু রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। কথায় কথায় বৈশ্বিক সমস্যা, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কথা বলে। এগুলো আসল সমস্যা নয়। সরকারের দুর্নীতির কারণে দেশে এসব সমস্যা হচ্ছে। তাদের কেউ কানাডায়-মালয়েশিয়ায় বাড়ি বানানোয়, টাকা পাচার করায় ও দেশের সম্পদ বিদেশে জমা করায় এসব সমস্যা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীও মানুষের সঙ্গে উপহাস করেন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষ খাদ্যের সংকটে আছে। অথচ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী প্রধানমন্ত্রী কদিন আগেও রাষ্ট্রপতির বাড়িতে (কিশোরগঞ্জে) হাওর এলাকায় গেলে তাঁকে ৪৩ পদের খাবার রান্না করে খাওয়ানো হয়েছে। সেখানে ২৩ প্রকারের মাছ, খাসি, হাঁস ও গরুর গোশত খাওয়া হয়েছে। যখন মানুষ খেতে পাচ্ছে না, খাদ্যের অভাব চলছে, তখন এটা সাধারণ মানুষের সঙ্গে উপহাস।

বক্তব্যের শুরুতে সমাবেশে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের কাছে মির্জা ফখরুল জানতে চান, বিএনপির শাসনামলে (২০০১-২০০৬ সাল) চাল-ডালের কেজিপ্রতি দাম কত ছিল আর এখন কত হয়েছে? নেতা-কর্মীরা তখন চিৎকার করে বলেন, চাল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। বিএনপির সময়ে এই দাম প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ১৭-১৮ টাকা ছিল বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। এসময় উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনগণ জানে কিভাবে সরকারকে বিদায় করতে হয়: ড. মোশাররফ
যাত্রাবাড়ী থানার উদ্যোগে পদযাত্রা উপলক্ষে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা রোডে নবী টাওয়ারের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই সরকারকে বিদায় করতে না পারলে দেশের সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাই বিএনপি এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না এবং নির্বাচন হবে না। তাই যত দ্রুত এ সরকারের বিদায় হয় ততই এদেশের কল্যাণ। আমরা দশ দফা দাবি দিয়েছি আমাদের দাবি মানা না হলে তাহলে দেশের জনগণ জানে কিভাবে এদেরকে বিদায় করতে হয়।

তিনি বলেন, এদেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে, দেশের অর্থনীতি কে বাঁচাতে হলে, দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে, দ্রব্যমূলক দাম কমাতে হলে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। এই সরকারকে বিদায় করতে না পারলে দেশের মানুষ বাঁচবে না। মোশাররফ বলেন, এই সরকার গণতন্ত্র হত্যা করেছে কেন? কারণ তারা জানে যদি জনগণ ভোট দিতে পারে তাহলে তাদেরকে টেনে গদি থেকে নামিয়ে দিবে। তাই তারা ২০১৮ সালের নির্বাচন দিনের ভোট রাতে করেছে। তারা জানে জনগণ যদি দিনে ভোট দিতে পারে তাহলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।

বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে কঠোর আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বৈরাচারী এরশাদকে বিএনপি›র নেতৃত্বে আপনারা পতন ঘটিয়েছিলেন আগামী দিনেও এই সরকারের পতন করার জন্য যে আন্দোলন সংগ্রাম আসবে তার জন্য সবাই প্রস্তুত থাকবেন। পদযাত্রায় আরো উপস্থিত ছিলেন- নবীউল্লা নবী, বাদল সরকার, জামশেদুল আলম শ্যামল প্রমুখ

আওয়ামী লীগই অস্তিত্ব সংকট পড়বে: মির্জা আব্বাস
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আওয়ামী লীগ বলে বিএনপি নির্বাচনে না এলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে, বিএনপি নির্বাচনে না এলে আওয়ামী লীগই অস্তিত্ব সংকট পড়বে। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শাহবাগ থানার উদ্যোগে পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী যুব দলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সদস্য সচিব সবুজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক নুরুল আমিন তুহিনসহ শাহবাগ থানা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

দিনের ভোট দিনে হতে হবে: ড. মঈন খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, এদেশে দিনের ভোট দিনেই হতে হবে। দিনের ভোট আগের রাতে হওয়া চলবে না। আমরা যার ভোট, সে দেব। বর্তমান সরকার একসময় বলতো, আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। মজার বিষয় হচ্ছে আগে যারা একথা বলেছিল, তারা আজকে কী করছে? তারা আজকে বলছে, আমার ভোট আমি দেব, দিনের ভোট রাতে দেব। রাজধানীর পল্লবী থানার সিরামিক গেট সংলগ্ন মোড়ে পদযাত্রা পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পিকআপ ভ্যানে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর সদস্য সচিব আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য মেহেরুন নেসা হক, পল্লবী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ আলী গাজী প্রমুখ।

এছাড়া খিলক্ষেত থানার উদ্যোগে পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন ঢাকা জেলা বিএনপিসাধারণ সম্পাদক এড. নিপুণ রায় চৌধুরী। হাজী ফজলুল হকের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন আক্তার হোসেন, শাহীনুর রহমান মারফত প্রমুখ। উত্তরখানের পদযাত্রা মৈনারটেক বাজার হতে শুরু হয়ে মাজার রোড কাঁচা বাজারে গিয়ে শেষ হয়। দক্ষিণখানেরটি ফায়দাবাদ চৌরাস্তা থেকে দক্ষিণখান কেসি হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। তুরাগের কর্মসূচি উত্তরা ১০নং সেক্টরে শুরু হয়ে কামাড়পাড়া বাজারে, বিমানবন্দরেরটি উত্তরা ১নং সেক্টর ছাপড়া মসজিদ থেকে শুরু হয়ে জসিমউদ্দিন রোডে, পশ্চিম থানার পদযাত্রা ৭নং সেক্টর উত্তরা হাইস্কুলের পাশ থেকে শুরু হয়ে ১০নং সেক্টরে সুইস গেটে, দারুসসালামের পদযাত্রা এসএ খালেক পাম্প থেকে শুরু হয়ে পুরাতন গাবতলী মোড়ে, শাহআলীরটি ঈদগাহ মাঠ থেকে শুরু হয়ে মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেটে, মিরপুর থানার পদযাত্রা প্রশিকা বিল্ডিংয়ের সামনে শুরু হয়ে কমার্স কলেজে, কাফরুলের পদযাত্রা শেওড়াপাড়া থেকে শুরু হয়ে ১০নং গোলচত্ত্বরে, রূপনগর থানারটি দুয়ারীপাড়া মোড় থেকে শুরু হয়ে মিল্কভিটা চার রাস্তার মোড়ে, ভাষাণটেকের পদযাত্রা পকেট গেট থেকে শুরু হয়ে ১৪নং সেকশনে শেষ হয়। তেজগাঁও থানার কর্মসূচি কারওয়ান বাজার প্রগতী টাওয়ার থেকে শুরু হয়ে নাখালপাড়া রেলগেটে, তেজগাঁও শিল্পঞ্চল থানারটি নাবিস্কো থেকে শুরু হয়ে আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটির সামনে, হাতিরঝিলের পদযাত্রা চৌধুরী পাড়া থেকে শুরু হয়ে রামপুরা ব্রীজে, শেরে-বাংলা নগরের কর্মসূচি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে শ্যামলী, আদাবরের পদযাত্রা জাপান গার্ডেন সিটির সামনে থেকে শুরু হয়ে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ডে, মোহাম্মদপুরের কর্মসূচি বছিলা থেকে শুরু হয়ে সলিমুল্লাহ কবরস্থান মাঠে শেষ হয়।

ভাটারা থানার পদযাত্রা থানার সামনে থেকে শুরু হয়ে ১০০ ফিটে, রামপুরার কর্মসূচি রামপুরা বাজার থেকে আবুল হোটেল, বাড্ডারটি সাতারকুল হতে হোসেন মার্কেট, গুলশানেরটি সুবাস্তু নজরভ্যালি থেকে নর্দ্দা বাসস্ট্যান্ড, বনানী থানা মহাখালী নিপসন ইনস্টিটিউট থেকে বনানী সুপার মার্কেট, ক্যান্টনমেন্টের পদযাত্রা মাটিকাটা থেকে কালীবাড়ি গিয়ে শেষ হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণে : বংশাল থানার পদযাত্রা পুরাতন ঢাকার নয়াবাজার থেকে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে শুরু হয়ে সিদ্দিক বাজার গিয়ে শেষ হয়। পল্টন থানার কর্মসূচি দক্ষিণের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামের নেতৃত্বে ইস্টার্ন প্লাস মার্কেটের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শেষ হয়। সূত্রাপুরের কর্মসূচি ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে সূত্রাপুর থানার বানিয়া নগর এলাকা থেকে শুরু হয়, শাহজাহানপুরে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী’র নেতৃত্বে মতিঝিলে বিএনপি’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে, ডেমরা থানায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামের নেতৃত্বে, কদমতলী থানায় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর নেতৃত্বে, চকবাজার এলাকায় মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজের নেতৃত্বে, লালবাগে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার নেতৃত্বে, হাজারীবাগে শিরিন সুলতানার নেতৃত্বে, রমনায় আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হয়।

আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারকে বিদায় করা হবে : আমীর খসরু
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বিদায় করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার কায়েমের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন নেতারা। সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার নগরীর ১৫টি থানা এলাকায় পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। দুপুরের পর থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মহানগরীর ১৫টি স্পটে সমবেত হন। পাড়া-মহল্লা, অলিগলি পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। নগরীর ডবলমুরিং থানা বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তারা মানুষের কথা বলার অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেছে। গুম, খুনের মাধ্যমে দেশে ভয়াল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকারের সীমাহীন লুটপাট, দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। সরকার একের পর এক গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্য বাড়িয়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় জনগণের মুক্তির জন্য এ সরকারের পতনের কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই তাদের বিএনপির পাল্টা কর্মসূচি দিতে হবে। বাংলাদেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। এদেশের জনগণ চোরদের হাতে তাদের ভাগ্য তুলে দিতে পারেনা। আওয়ামী লীগ বলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নাকি রাজনীতি করতে পারবেন না, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এটা কী মামার বাড়ির আবদার। মনে হচ্ছে দেশটা তাদের জমিদারি। তারা যা বলবে তাই মানতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যতগুলো গুম, খুনের সাথেজড়িত সবগুলো যোগ করলে যত মামলা হবে নির্বাচন তো দূরের কথা তাদের নেতা-নেত্রীরা কেউ জেলের বাইরে থাকতে পারবে না। জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন দেশ সরকারের লুটপাট, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভোটাধিকার লঙ্ঘনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা যতই চেষ্টা করুক ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হবে না। তাদেরকে বিদায় করে নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। ডবলমুরিং থানা বিএনপির সভাপতি সেকান্দর হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপি নেতা এস এম সাইফুল আলম, নাজিমুর রহমান, আবুল হাশেম, এডভোকেট কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ, শামসুল আলম, মাহবুবুল হক, শহীদ মো. চৌধুরী, ইকবাল হোসেন, মহিলা দলনেত্রী ফাতেমা বাদশা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এদিকে কাট্টলীতে পাহাড়তলী বিএনপির সমাবেশে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বায়েজিদ থানা বিএনপির সমাবেশে ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, পাঁচলাইশ থানার সমাবেশে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, ইপিজেড থানার সমাবেশে সাবেক এমপি ম্যা ম্যা চিং, সদরঘাট থানা বিএনপির সমাবেশে মাহাবুবের রহমান, বাকলিয়ার সমাবেশে ডা. শাহাদাত হোসেন, কোতোয়ালী থানার সমাবেশে আবুল হাশেম বক্কর প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। শান্তিপূর্ণভাবে নগরীতে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি পালিত হয়।

অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির সংগ্রাম চলবে : নিতাই রায়
খুলনা ব্যুরো জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাড নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, সরকার পতন আতঙ্কে ভুগছে। আয়নায় নিজের চেহারা দেখলে তারা ভয় পায়। পদযাত্রার মতো শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি বানচাল করতে পুলিশ শহর জুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অবৈধ লুটেরা অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির সংগ্রাম চলবে। গতকাল খুলনা সদর থানা বিএনপি আয়োজিত পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আমরা একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে ধ্বংস করেছে। শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা আমাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্ত সরকার সেই অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। দ্রব্যমূল্য পাগলা ঘোড়ার মতো লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটের কারণে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। পদযাত্রা কর্মসূচি বানচাল করতে জেলায় জেলায় পুলিশী তৎপরতা ও গণ গ্রেফতার এবং তল্লাশি অভিযানের নামে ভয়ভীতি প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

গতকাল শনিবার বিকেল ৩টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক শফিকুল আলম মনা। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিকত সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। নগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহবায়ক আমীর এজাজ খান, সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী, সৈয়দা রেহানা ঈসা, আব্দুর রাজ্জাক, ওয়াহিদুর রহমান দীপু, বেগ তানভিরুল আযম, কে এম হুমায়ুন কবির, এহতেশামুল হক শাওন প্রমুখ।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী মহানগরীর থানায় থানায় পদযাত্রা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। নগরীর পশ্চিমাঞ্চল রাজপাড়া থানা এলাকায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। মধ্য নগরীতে পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। নগরীর পূর্বাঞ্চলে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. শাহীন শওকত নেতৃত্ব দেন। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সাবেক কাউন্সলর বজলুর রহমান মন্টু।

পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বিনা ভোটের এই সরকার যতই টালবাহানা করুক, ১০ দফা বাস্তবায়ন ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বিএনপি ঘরে ফিরবেনা। সেইসাথে দেশে কোন নির্বাচনও হতে দেয়া হবেনা। কারণ এই সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করে নব্য বাকশাল কায়েম করেছে।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে এবং জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে ও গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার করতে এই সরকারকে বিতারিত করতে হবে বলে উল্লেখ করেন। সেইসাথে সকলকে আন্দোলনে স্বতঃস্ফুর্থ অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে পদযাত্রা শুরু করেন।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশাল মহানগরী থানার ৩টি স্থানে একযোগে পদযাত্রার কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এসব কমসূচিতে অংশ নেন। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ও কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব হাবিবুন নবি খান সোহেলের নেতৃত্বে কোতয়ালি থানার পদযাত্রা নগরীর আমতলা মোড় পানির ট্যাংকি থেকে শুরু হয়ে চাঁদমারি এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পদযাত্রা কমসূচির শুরু এবং শেষে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

কাউনিয়া থানার পদযাত্রা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরি, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার ও মাহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক এর নেতৃত্বে টেক্সটাইল মোর থেকে শুরু হয়ে আমানতগঞ্জ সোনালী আইসক্রিম মোরড় শেষ হয়েছে। নগরীর এয়ারপোর্ট থানার পদযাত্রায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনি, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাড. আলী হায়দার বাবু, হাবিবুর রহমান টিপু নেতৃত্বে কাশিপুর বাজার থেকে শুরু হয়ে নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে এসে শেষ হয়েছে।

গাজীপুর জেলা ও টঙ্গী উপজেলা সংবাদদাতা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন থানায় পৃথক পদযাত্রা করেছে বিএনপি। গতকাল শনিবার বিকেলে বাসন থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুল ইসলাম মনিরের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব গাসিক কাউন্সিলর মোসলেম উদ্দিন চৌধুরীর মুসার সঞ্চালনায় স্থানীয় নাওজোর এলাকায় পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মো. শওকত হোসেন সরকার। উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুরুজ আহমেদ প্রমুখ। পরে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শান্তিপূর্ণ একটি পথযাত্রা বের হয়।

এরআগে সকালে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় বিনা উস্কানীতে পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন পূবাইল থানা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান বিকি। সকাল ৯টায় ঢাকা-বাইপাস সড়কের মিরের বাজার থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। কিছুদূর এগুতেই পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের বাধা ঠেলে পদযাত্রাটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণকালে বিনা উস্কানীতে পুলিশ পদযাত্রায় ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

লাঠিচার্জে বিএনপি নেতা সুলতান উদ্দিন চেয়ারম্যান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নজরুল ইসলাম খান বিকি, বিল্লাল হোসেনসহ ১০ জন আহত হন। এর আগে পদযাত্রাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, পূবাইল থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা আব্দুল আলীম মোল্লা, মোবারক হোসেন প্রমুখ।

এদিকে পদযাত্রা করেছে টঙ্গী পশ্চিম ও পূর্ব থানা বিএনপি। গতকাল শনিবার ১১টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপি চেরাগ আলী থেকে কলেজ গেট ও পূর্ব থানা বিএনপি টঙ্গী বাজার থেকে আনারকলি এসে পদযাত্রাটি শেষ করে।

টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির আহ্বায়ক সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনের নেতৃত্বে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সদস্য সচিব ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সফিউদ্দিন সফি। অপরদিকে টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বশির উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পদযাত্রায় অংশ নেয় সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান নূর, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর বিএনপির যুব উন্নয়ন ও যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহবুব-উল-আলম শুক্কুর প্রমুখ পদযাত্রায় অংশ নেয়।

মিছিলের নগরী রংপুর :
বিএনপির পদযাত্রা উপলক্ষে রংপুর শহরের একাধিক সড়কে মিছিল করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। গতকাল সকাল থেকে রংপুর মেট্রোপলিটনের ছয়টি থানা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কোতোয়ালি থানা বিএনপির উদ্যোগে নগরের সেন্ট্রাল রোডের সিটি কলেজের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের পায়রা চত্বর হয়ে শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে শাপলা চত্বরে এসে সমাবেশ করে। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান। তাজহাট থানার উদ্যোগে নগরের চকবাজার এলাকা থেকে মিছিল বের হয়। মিছিলটি কারমাইকেল কলেজের সামনে দিয়ে লালবাগ হয়ে দর্শনা মোড়ে এসে সমাবেশ করে। সেখানেও সভাপতিত্ব করেন সামসুজ্জামান। হারাগাছ থানার উদ্যোগে মহব্বতখা স্কুল মাঠ থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আমতলা যান। একই সময় পরশুরাম থানা বিএনপির উদ্যোগে নগরের পান্ডারদিঘি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটারব্যাপী পদযাত্রা শেষে বুড়িরহাটে এসে সমাবেশ করে এবং মাহিগঞ্জ থানা বিএনপির উদ্যোগে আমতলা থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে সাতমাথা এলাকায় গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ ছাড়া একই সময় হাজিরহাট থানা বিএনপিও পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিএনপি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ