Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ২৬ চৈত্র ১৪৩০, ২৯ রমজান ১৪৪৫ হিজরী

বাখমুতে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ: ইউক্রেন

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১:১১ পিএম

দনেতস্ক অঞ্চলের বাখমুত শহরে ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের সেনারা। বিশাল এই শহরকে তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলেছে রুশ বাহিনী। এখন চলছে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করার কাজ। আর মাত্র একটি ছোট রাস্তা খোলা আছে যেটি দখল করলেই বাখমুতে থাকা বিপুল পরিমাণ ইউক্রেনীয় সেনা পুরোপুরি রুশ কবজায় চলে যাবে। এমন পরিস্থিতিতেও বাখমুত থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসছে না। সেখানে থাকা ইউক্রেনীয় কম্যান্ডার কর্নেল ইয়ুরি মাদিয়ার সিএনএনকে বাখমুতের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, এই শহরে এখন ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। বাখমুতের প্রতিটি দিকেই এখন কঠিন অবস্থা। তারা আমাদের ঘিরে ফেলতে চাইছে। তবে সবথেকে খারাপ অবস্থা উত্তর পাশের। রাশিয়ানরা সেখানে বিরামহীনভাবে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

তারা আমাদের একটি রাস্তার দখল নিতে চায়।
সিএনএন জানিয়েছে, রাশিয়ান সেনারা এখন ক্রমশ বাখমুতের উত্তর অংশ দখলে নিচ্ছে এবং ইউক্রেনীয়রা শহরটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। কর্নেল ইয়ুরি বলেন, আমাদের আক্রমণ করার মতো যথেষ্ট গোলাবারুদ নেই। না আছে গোলা, না আছে গ্রেনেড লঞ্চার। এরমধ্যে আবহাওয়াও একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে সবসময় কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। রাতের বেলা সামান্য দূরেও কিছু দেখা যায় না। তাপমাত্রা গত তিন দিন ধরে শূন্য ডিগ্রির উপরে। ফলে জমে থাকা সবকিছু গলতে শুরু করেছে। দিনের বেলা সারাক্ষণ বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ইউক্রেনের সেনারা কিছু করতে পারছে না।

রাশিয়ার প্রাইভেট মিলিটারি বাহিনী ওয়াগনারের ভূমিকার কথা জানালেন এই ইউক্রেনীয় কর্নেল। তিনি রুশ বাহিনীর এই অগ্রগতির পেছনে ওয়াগনারের অবদানই আসল বলে জানান। তিনি বলেন, এটি এখন রাশিয়ার নতুন কৌশল। ওয়াগনারের যোদ্ধারাই সামনে আগাচ্ছে, এরপর রাশিয়ার সেনারা সেখানে আসছে। ওয়াগনারের ৫-১০-২০ জনের ছোট ছোট দলই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে, নতুন নতুন পজিশন দখল করছে। এরপর সেখানে অবস্থা পাকাপোক্ত করছে রাশিয়ার রেগুলার বাহিনী।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, বাখমুতের অবস্থা প্রতিদিন আরও কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। প্রতিদিনকার ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, শত্রুরা ইউক্রেনীয় সেনারা আশ্রয় নিতে পারে এমন সব অবস্থান ধ্বংস করে চলেছে। যেসব ইউক্রেনীয় সেনারা বাখমুতে রয়েছে তারাই আমাদের আসল নায়ক।

উল্লেখ্য, বাখমুত দনেতস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর। এই শহরের পতন হলে এ অঞ্চলের আর মাত্র দুটি বড় শহর বাকি থাকে রাশিয়ার জন্য। অপরদিকে ইউক্রেন বাখমুতকে নিজেদের প্রতিরক্ষার প্রধান দুর্গ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। এই শহরের পতন হলে ইউক্রেনের গোটা ফ্রন্টলাইন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে যে কোনো উপায়েই হোক বাখমুতকে নিজের দখলে রাখতে চায় কিয়েভ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইউক্রেন-রাশিয়া


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ