Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ২৬ চৈত্র ১৪৩০, ২৯ রমজান ১৪৪৫ হিজরী

লুহানস্কের হাসপাতালে ইউক্রেনের রকেট হামলা, ১৪ রোগী নিহত

সরাসরি জড়িত যুক্তরাষ্ট্র: রাশিয়ার জাতিসংঘ মিশন সোলেদারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রুশ সেনা ইউক্রেনকে ট্যাঙ্ক দিয়ে ‘অনৈতিক অপরাধ’ করছে যুক্তরাষ্ট্র: উ. কোরিয়া পুতিন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩, ১২:০০ এএম

রাশিয়া ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে পূর্ব ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে একটি হাসপাতালে ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণ করার জন্য অভিযুক্ত করেছে। ওই হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ২৪ জন রোগী ও চিকিৎসা কর্মী আহত হয়েছে। রাশিয়া একে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছে। রাশিয়ার জাতিসংঘ মিশন এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকেও দায়ী করেছে।

শনিবার ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রলালয় এক বিবৃতিতে বলেছে যে, হামলাটি রাশিয়ান-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নোভোয়াইদারের একটি হাসপাতালে আঘাত করেছিল এবং এ হামলা মার্কিন সরবরাহকৃত হিমারস রকেট লঞ্চ সিস্টেম ব্যবহার করে করা হয়েছিল। ‘একটি পরিচিত কার্যকরী বেসামরিক চিকিৎসা সুবিধার বিরুদ্ধে একটি ইচ্ছাকৃত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিঃসন্দেহে কিয়েভ সরকারের একটি গুরুতর যুদ্ধাপরাধ,’ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ অপরাধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সাথে জড়িত সকলকে খুঁজে বের করে জবাবদিহি করা হবে।’
জাতিসংঘে রাশিয়ার প্রথম উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি পলিয়ানস্কি শনিবার টুইটারে লিখেছেন, লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক (এলপিআর) এর নোভোয়াইদারের একটি হাসপাতালে ইউক্রেনের রকেট হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই জড়িত, যাতে ১৪ জন নিহত এবং আরও ২৪ জন রোগী ও চিকিৎসক আহত হয়। ক‚টনীতিক বলেছিলেন যে, এটি ‘আরেকটি ইউক্রেনীয় জঘন্য যুদ্ধাপরাধ।’ তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, ‘মার্কিন সরবরাহকৃত ক্ষেপণাস্ত্রের দ্বারা হামলাতেই ওই হাসপাতালে ১৪ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছিল।’ পলিয়ানস্কির মতে, ‘যেমন আমরা ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানি, হিমারস-এর রকেট হামলার লক্ষ্যগুলো ওয়াশিংটনই নির্ধারণ করে দেয়।’ ‘সুতরাং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি জড়িত করে তোলে। মার্কিন করদাতাদের তাদের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয় সে সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত,’ তিনি বলেছিলেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী শনিবার সকালে নভোয়েদারের একটি হাসপাতালে মার্কিন-নির্মিত হিমারস মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেমের রকেট-চালিত প্রজেক্টাইল ব্যবহার করে একটি ইচ্ছাকৃত আক্রমণ চালায়। হামলায় ১৪ জন রোগী ও চিকিৎসা কর্মী নিহত হয়েছেন, আর ২৪ জন বিভিন্ন ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন। রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, বেসামরিক এবং সামরিক স্বাস্থ্য পেশাদাররা বহু মাস ধরে নোভোয়াইডার হাসপাতালে স্থানীয় বেসামরিক নাগরিক এবং পরিষেবা সদস্যদের চিকিৎসা প্রদান করছেন।
সোলেদারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রুশ সেনা : ডোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের সোলেদারের কাছে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর বøাগোদাতনয় রাশিয়ার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে, ওয়াগনার প্রাইভেট মিলিটারি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ইয়েভজেনি প্রিগোজিন রোববার বলেছেন। ‘ওয়াগনার পিএমসি-এর ইউনিটগুলো বøাগোদাতনয় নেয়া হয়েছে। শহরটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে,’ তার প্রেস সার্ভিস তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে। ভাষ্যটির সাথে একটি অ্যাসল্ট ইউনিটের কমান্ডারের মন্তব্যের একটি অডিও রেকর্ডিং রয়েছে, যারা বøাগোদাতনয়ের দক্ষিণ উপকণ্ঠে পৌঁছেছে।
১২ জানুয়ারী, সোলেদারকে ইউক্রেনের কাছ থেকে মুক্ত করা হয়েছিল, রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইগর কোনাশেনকভের মতে, এ শহরের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আর্টিওমভস্কে (ইউক্রেনীয় নাম বাখমুত) ইউক্রেনীয় সৈন্যদের সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেয়া এবং পরবর্তীতে সেখানে আটকে থাকা ইউনিটগুলিকে অবরুদ্ধ ও ঘেরাও করা সম্ভব করে।
ইউক্রেনকে ট্যাঙ্ক দিয়ে ‘অনৈতিক অপরাধ’ করছে যুক্তরাষ্ট্র : উত্তর কোরিয়া গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো ইউক্রেনে ট্যাঙ্ক পাঠানোর মার্কিন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে, এটিকে একটি অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্থায়ী করার লক্ষ্যে সংগঠিত ‘অনৈতিক অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মার্কিন বিষয়ক পরিচালক কওন চুং-কেউন রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কিসিএনএ’তে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে ওয়াশিংটনের অভিযোগ ইউক্রেনে নিজেদের সামরিক সহায়তার ন্যায্যতা দেয়ার জন্য একটি ‘ভিত্তিহীন গুজব’।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ন্যায়সঙ্গত উদ্বেগ ও সমালোচনাকে উপেক্ষা করে যেকোনো মূল্যে ইউক্রেনে আধুনিক যুদ্ধ ট্যাঙ্কের মতো আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পরিশ্রম করছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে এটি একটি অনৈতিক অপরাধ।’ উত্তর কোরিয়া-রাশিয়া অস্ত্র চুক্তির ভিত্তিহীন দাবিগুলি একটি ‘গুরুতর উস্কানি যা কখনই অনুমোদিত হতে পারে না’ এবং তাদের স্থায়ী করা একটি ‘সত্যিই অনাকাক্সিক্ষত ফলাফল’ নিয়ে আসবে, বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এর আগে, শনিবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন ও প্রধান সহযোগী কিম ইয়ো জং ইউক্রেনের কাছে যুদ্ধ ট্যাঙ্ক হস্তান্তরের মার্কিন প্রতিশ্রæতির নিন্দা করে দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন প্রক্সি যুদ্ধের মাধ্যমে আধিপত্য জয়ের জন্য ‘আরও লাল রেখা অতিক্রম করছে’।
পুতিনের সাথে টেলিফোনে আলোচনা চালিয়ে যাবেন জার্মান চ্যান্সেলর : জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সাথে টেলিফোনে আলোচনা চালিয়ে যাওয়াকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন। রোববার প্রকাশিত ডের ট্যাগেসপিগেল দৈনিককে দেয়া একটি সাক্ষাতকারে শোলৎজ বলেছেন, ‘আমি আবার পুতিনের সাথে টেলিফোনে কথা বলব, কারণ একে অপরের সাথে কথা বলা দরকার।’
পরিস্থিতি সম্পর্কে ‘একদম ভিন্ন’ দৃষ্টিভঙ্গি থাকা সত্তে¡ও এ ধরনের কথোপকথনের সুর ‘অশালীন নয়,’ জার্মান চ্যান্সেলর উল্লেখ করেছেন, এ প্রসঙ্গে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ অভিযানকে ‘একটি ভয়ঙ্কর বুদ্ধিহীন যুদ্ধ’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। ‘কখনও কখনও ইস্যুটি বন্দি বিনিময়, শস্য রপ্তানি, জাপোরোজিয়ে এনপিপি সম্পর্কিত বিশেষ প্রশ্নগুলির বিষয়ে ছিল,’ শোলৎজ বলেছিলেন। ‘কিন্তু আমি মনে করি বিশ্বের এ ভয়ঙ্কর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে সর্বদা আলোচনার প্রয়োজন। এর জন্য শর্তগুলি পরিষ্কার - রাশিয়ান সৈন্য প্রত্যাহার,’ তিনি যোগ করেন। জার্মান চ্যান্সেলর এবং রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট সর্বশেষ টেলিফোন কথোপকথন করেছিলেন ২ ডিসেম্বর, ২০২২ এ।
রাশিয়ার সাথে সরাসরি সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত ন্যাটো : পর্তুগালের আরটিপি টিভি চ্যানেলের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটো সামরিক কমিটির চেয়ারম্যান রব বাউয়ার বলেছেন যে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন বøক রাশিয়ার সাথে সরাসরি সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত।’ তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর একটিতে আক্রমণ করে লাল রেখা অতিক্রম করলেই ন্যাটো প্রতিক্রিয়া জানাবে।
সামরিক কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, ন্যাটোকে আরও ভালভাবে প্রস্তুত করা উচিত কারণ বর্তমানে রাশিয়ার সামরিক উদ্যোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনার শত্রæর কাছে আরও ভালো অস্ত্র থাকাটা শত্রæর সমস্যা নয়। এটাই আপনার সমস্যা।’ সাক্ষাতকারে বাউয়ার ‘শান্তির সময়েও যুদ্ধকালীন অর্থনীতি’ প্রবর্তনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছিলেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, এ প্রক্রিয়াটি কঠিন হবে।
ট্যাঙ্ক বা ফাইটার জেটের মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে না : রাশিয়ান নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধের কথিত প্রচেষ্টা হিসাবে কিয়েভে অস্ত্র সরবরাহের ন্যায্যতা দেয়ার জন্য পশ্চিমা প্রচেষ্টার নিন্দা করেছেন।
সম্প্রতি ইতালীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইডো ক্রসেটো বলেছিলেন, রাশিয়ান ট্যাঙ্কগুলো কিয়েভ এবং ‘ইউরোপের সীমানায়’ পৌঁছলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে এবং ইউক্রেনে অস্ত্রগুলো ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমানোর উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। এর জবাবে মেদভেদেভ শনিবার তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন, ‘প্রথমত, ইউক্রেনকে রক্ষা করা, যা ইউরোপে কারোরই প্রয়োজন নেই, কিছু ঘটলে প্রতিশোধ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করবে না। দ্বিতীয়ত, একবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে, দুর্ভাগ্যবশত তা ট্যাঙ্কে বা এমনকি ফাইটার জেটেও শেষ হবে না। তারপর সবকিছু অবশ্যই ধুলায় পরিণত হবে।’
ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা লাতিন আমেরিকার নেই : আর্জেন্টিনা এবং অন্যান্য লাতিন আমেরিকার দেশগুলো ইউক্রেন বা অন্য কোনও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্ত্র সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছে না। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ শনিবার এ কথা বলেছেন।
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের সাথে বৈঠকের পর বুয়েনস আইরেসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা এবং লাতিন আমেরিকা ইউক্রেন বা অন্য কোনো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্ত্র পাঠানোর কথা ভাবছে না।’ এর আগে লাতিন আমেরিকার আরেকটি প্রধান দেশ ব্রাজিলও জার্মানির কাছে ট্যাঙ্কের গোলা বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। সূত্র : তাস, রয়টার্স, আল-জাজিরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রাশিয়া-ইউক্রেন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ