Inqilab Logo

সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৮ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিজরী

তুরস্ক-সিরিয়ার ভূমিকম্পকে উদযাপনের উপলক্ষ বানালো ভারতের চরমপন্থি হিন্দুরা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১২:০০ এএম

সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এক ভয়ংকর ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় এযাবৎ প্রায় ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। আহত হয়েছে সোয়া লাখ আদম সন্তান। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও চাপা পড়ে থেকে উদ্ধারের প্রহর গুণছেন অনেকে। উদ্ধারকাজে সহযোগিতা ও ত্রাণ নিয়ে উড়ে আসছেন পৃথিবীর শতাধিক দেশের উদ্ধারকারীরা। অনেক দেশে জাতীয়ভাবে শোকও পালন করা হয়েছে।

কিন্তু একমাত্র দেশ ভারত, যে দেশের সরকার ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নিলেও সরকার সমর্থক চরমপন্থিরা প্রলয়ঙ্করি ভ‚মিকম্পকে উদযাপন করেছে। মূলত তুরস্ক ও সিরিয়ার জনগণের মুসলিম পরিচয়ের কারণেই গেরুয়া চরমপন্থিরা এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ করেছে। একই ধরনের ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছেন ফরাসি ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি এবদো। তারা বিধ্বংসী ভ‚মিকম্পকে উপহাস করে একটি কার্টুন প্রকাশ করে যা সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ভারতের গেরুয়া চরমপন্থিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের কথা উল্লেখ করে এর কর্মফল বলে অভিহিত করে ভয়াবহ ভ‚মিকম্পকে। অন্যরা বলেছে, ‘ভ‚মিকম্পের প্রাণহানিতে সুসংবাদ’। কেউ বলেছে, ‘সুসংবাদ, তুরস্কের প্রাপ্য এটাই’।

মোট জনসংখ্যার হিসেবে মুসলিমরা সংখ্যালঘু হলেও ২০ কোটিরও বেশি মুসলিমের বাস ভারতে। কিন্তু এ দেশেই বর্তমান ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থক বহু গেরুয়া দল রয়েছে যাদের ঘৃণা, আক্রোশ ও নৃশংসতার মূল টার্গেট দেশটির শান্তিপ্রিয় মুসলিমরা। নিজেদের গরুর সন্তান দাবিকারী এসব চরমপন্থিরা কথায় কথায় মুসলিমদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে এবং কথিত গণপিটুনি বা জ্বলন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যা তাদের কাছে অনেকটা মামুলি ব্যাপার। সরকারের পক্ষ থেকে পৃষ্ঠপোষকতা পায় এবং এ ধরনের নৃশংসতার কোনো দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় তারা অনেকটাই বেপরোয়া বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভারতের চরমপন্থিদের হিংসাত্মক কর্মকাÐের বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার থেকে তুরস্ক। তা হোক গো-সেবকদের হাতে মুসলিমকে গণপিটুনি নিয়ে হত্যা, বাবরি মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ ধ্বংস, কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলোপ। এমনকি জাতিসঙ্ঘে ভারতের মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের নৃশংস আচরণের ঘোর বিরোধিতা করে সরব থেকে তুরস্ক। মূলত এরই প্রতিশোধ মনে করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুরস্ক-সিরিয়ার ভ‚মিকম্প ও হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানিকে উদযাপন করেছে গেরুয়া আধিপত্যবাদীরা। সূত্র : প্যাট্রিওন ডটকম।



 

Show all comments
  • Nurul Alam Tipu ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৫:৪১ পিএম says : 0
    গরুর মল মুত্র খাওয়া বলদ এর বংশধর দের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা যায় না!!!!
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: তুরস্ক-সিরিয়া

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ