Inqilab Logo

রোববার, ১৬ জুন ২০২৪, ০২ আষাঢ় ১৪৩১, ০৯ যিলহজ ১৪৪৫ হিজরী

ভাঙ্গণের মুখে বাস্কেটবল জিমন্যাশিয়াম!

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ জানুয়ারি, ২০২০, ৮:০৬ পিএম

দীর্ঘ দুই দশক ধরে ঢাকার অভিজাত পাড়া খ্যাত ধানমন্ডিস্থ আবাহনী ক্লাবের পাশে স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে বাস্কেটবল জিমন্যাশিয়াম। প্রায় ২০ বছর এখানে নিয়মিত আয়োজন হয়েছে বিভিন্ন লিগ ও টুর্নামেন্টের খেলা। ধানমন্ডির বাস্কেটবল জিমন্যাশিয়ামে সারা বছর খেলায় মেতে থাকেন পুরুষ ও নারী খেলোয়াড়রা। জাতীয় দলের অনুশীলনও এখানেই হয়। অথচ এই জিমন্যাশিয়ামটি এখন ভাঙ্গণের মুখে! শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের কারণেই ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে বাস্কেটবল জিমন্যাশিয়াম। তবে খেলার বিকল্প ব্যবস্থা না করায় হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের মাঝে। দেশের প্রায় ৫৩টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে হাতেগোনা ক’টিতে খেলা হয় নিয়মিত। বাস্কেটবল তাদেরই একটি।

বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, আবাহনী ক্লাব সংলগ্ন শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। পুরো কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে প্রায় দুই থেকে তিন বছরের মতো সময় লেগে যেতে পারে। এই দু’বছর কি হবে বাস্কেটবলের? খেলাটির ভবিষ্যত চিন্তা করে সদ্য সমাপ্ত নেপাল সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক শারমিন খাতুন বলেন, ‘আমি শুনেছি বাস্কেটবল জিমন্যাশিয়াম ভেঙ্গে ফেলা হবে। এটা ভেঙ্গে ফেললে আমাদের খেলাই বন্ধ হয়ে যাবে। বাস্কেটবল খেলতে গেলে প্রচুর অনুশীলনের প্রয়োজন। খেলার জায়গা না থাকলে আমরা অনুশীলন করবো কোথায়? বছরের বেশীরভাগ সময়ই বাস্কেটবল খেলা হয়। তাই বাস্কেটবলের জন্য একটি বিকল্প ভেন্যুর ব্যবস্থা করা উচিত এনএসসির।’

একই হতাশা এসএ গেমসে পুরুষ দলের অধিনায়ক শামসুজ্জামান খান শোয়েবের কণ্ঠেও। শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শুরুর আগে আবাহনী ক্লাব সংলগ্ন সব স্থাপনা ভাঙ্গার কাজ শুরু হলেও কোন চিঠি পায়নি বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশন। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কমান্ডার (অব.) একে সরকার। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জৈষ্ঠ্য পুত্র শহীদ শেখ কামালের অন্যতম প্রিয় খেলা ছিল বাস্কেটবল। উনার সঙ্গে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে আমিও খেলেছি। অনেক বছর ধরে এই জিমন্যাশিয়ামটি আকড়ে ধরে আছে খেলোয়াড়রা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে শত শত বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের ভবিষ্যত কি হবে, তা আমার জানা নেই।’ এ বিষয়ে জানতে এনএসসির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) শাহ আলম সর্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কমপ্লেক্স তৈরী করতে গেলে বাস্কেটবল জিমন্যাশিয়াম ভাঙ্গতে হবে। তবে কিভাবে খেলা কোর্টে রাখা যায় সে বিষয়ে ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসা দরকার। কথা বলা প্রয়োজন। খেলার ভেন্যু ঠিক না করে এই জিমন্যাসিয়াম ভাঙ্গলে খেলোয়াড়দের অবশ্যই ক্ষতি হবে। বাস্তবতা মেনেই বলতে হচ্ছে, বাস্কেটবলের জন্য বিকল্প একটি ভেন্যুর ব্যবস্থা করা অবশ্যই প্রয়োজন।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাস্কেটবল

১৯ ডিসেম্বর, ২০২১
১৩ ডিসেম্বর, ২০২১
৩০ নভেম্বর, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ