পটুয়াখালীর যুবক ক্বারী সাইয়্যেদ মুসতানজিদ বিল্লাহ রব্বানীর কোরআন তেলাওয়াতে মুগ্ধ যুক্তরাষ্ট্রবাসী
ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিকাশে বাংলাদেশের অবদান অনস্বীকার্য। এদেশে ইসলামি সংস্কৃতি চর্চার ইতিহাস অনেক প্রাচীন।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ৫ দিনের অনুষ্ঠান উদ্বোধনীতে প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ সংবাদদাতা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা ভাষা ব্যবহারে সকলকে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে বাংলা শব্দের বানান ও উচ্চারণ সম্পর্কে আরো সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই জায়গা থেকে আমাদের ছেলে-মেয়েদের বেরিয়ে আসতে হবে। যখন যেটা বলবে, সঠিকভাবেই উচ্চারণ করবে এবং বলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইদানিং বাংলা বলতে গিয়ে ইংরেজি বলার একটা বিচিত্র প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জানি না, অনেক ছেলে-মেয়ের মাঝে এখন এটা সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে গেছে। এভাবে কথা না বললে যেন তাদের মর্যাদাই থাকে না- এমন একটা ভাব। নতুন প্রজন্মের ইংরেজি ঢঙে বাংলা বলার প্রবণতা ছাড়াতে কী করা যায়, সে পথ বের করতে শিক্ষাবিদদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কথিত ভাষা বলব, ঠিক আছে। দয়া করে আমাদের ভাষার যে প্রচলিত ধারা সেটাকে এভাবে বিকৃত করে বাংরেজি বলে ফেলছি; এটা যেন আর না হয়। এদিকে একটু বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া উচিৎ।
তিনি রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী ভাষণে এ কথা বলেন।
তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, আমাদের ভাষার ওপর বারবার আঘাত এসেছে। এটাকে কখনো আরবি হরফে এবং কখনো রোমান হরফে লেখার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু বাঙালি কখনো তা মেনে নেয়নি। এটা হচ্ছে বাঙালিদের চরিত্র, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা। এ জন্যই আমরা সবসময় বলি, একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করার। সেভাবে আমরা স্বাধীনতাও অর্জন করেছি এই সংগ্রামের পথ বেয়ে। অন্য ভাষার প্রতি তার কোনো বৈরিতা নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে, নিজের ভাষা আগে শিখতে হবে। সেই সাথে অন্য ভাষাও আমরা শিখব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্য ভাষা শিখতে হবে। কিন্তু মাতৃভাষাকে ভুললে চলবে না। এটাই হচ্ছে আমাদের কথা। ভাষা শিক্ষার মধ্যে আলাদা একটা মাধুর্য আছে। পৃথিবীতে একমাত্র মানব জাতিরই ভাষা আছে। তারাই কেবল বলতে পারে। আমাদের ভাইয়েরা রক্ত ও জীবন দিয়ে আমাদের এই ভাষা উপহার দিয়ে গেছেন, এর মর্যাদা আমাদের রক্ষা করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, এই মাটির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই একজন যিনি এ দেশের, এ মাটির সন্তান হয়ে এ দেশকে শুধু স্বাধীন করেনি, এদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন। তারপর আমি একজন অভাগা আছি এর বাইরে আর যারাই যখন ক্ষমতায় এসেছে। আপনারা যদি একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন তাহলে দেখবেন তারা কখনো এই বাংলার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেনি। আশেপাশের দেশে জন্মগ্রহণ করে আমাদের দেশে এসেছে এটাই হলো বাস্তবতা। তাই সেদিক থেকে স্বাভাবিকভাবে আমাদের আলাদা মাটির টান আছে।
এসময় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে বিএনপি কোনো পদক্ষেপ নেইনি। বরং তারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কাজও বন্ধ করে দেয়।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা প্রচলিতভাবে কথা বলতে গিয়ে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করছি সেখানে বৈচিত্র্য রয়েছে, এটা থাকবেই, এখানে উচ্চারণে আঞ্চলিকতার টানও থাকতে পারে। যেমন- আপনারা যদি জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ শোনেন, তাহলে আপনারা দেখবেন গোপালগঞ্জের ভাষা তিনি (বঙ্গবন্ধু) সবসময় ব্যবহার করতেন। আমি বাংলা বিভাগের ছাত্রী ছিলাম। বাংলা বিভাগের শিক্ষকরা বলতেন, উনি এভাবে বললেন কেন?’ আমি বলতাম, ‘স্যার উনি যখন কথা বলেন, জনগণের জন্য কথা বলেন। জনগণের জন্য সহজে উপলব্ধি করার মতো করেই তিনি বলতেন।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। ইউনেস্কোর ভাষাবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যানভিটা অ্যাবি অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ঢাকায় ইউনস্কো প্রতিনিধি বিট্রেস কালডুন, শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. জিনাত ইমতিয়াজ আলী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি আদায়ে আরো সক্রিয় হওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষাভাষীর স্থান ষষ্ঠ। সেই হিসাবে জাতিসংঘের একটি ভাষা হিসাবে বাংলাকে গ্রহণ করে কি না- এ ব্যাপারে আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। যদিও এটা কার্যকর করতে অনেক রকম সমস্যা আছে। তবুও আমরা আমাদের দাবিটা তুলে রেখেছি। আমরা দাবিটা একদিন বাস্তবায়ন করতে পারব।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় ইউনেস্কোর সহায়তার জন্য জাতিসংঘ সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।আমরা এত দ্রæত এই ইনস্টিটিউটের কাজ শুরু করেছিলাম এবং গবেষণা শুরু করেছি এবং অনেক ভাষার নমুনা এখানে সংরক্ষণ করা আছে। ইউনেস্কো এই প্রতিষ্ঠানকে ক্যাটাগরি দুইয়ে উন্নীত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই ইনস্টিটিউট একদিন তাদের গবেষণা, ভাষা সংরক্ষণ, ভাষা সম্পর্কে আরও জ্ঞান সংরক্ষণ করবে। প্রত্যেকটা ভাষার উৎস কী, কিভাবে বিকশিত হলো, কিভাবে ভাষা বিভিন্ন জাতির কাছে এল, তা নিয়ে গবেষণার আধার হয়ে উঠবে। আমরা সেভাবে এই ইনস্টিটিউটকে গড়ে তুলতে চাই। আশা করি, বিশ্বের বুকে একদিন এই ইনস্টিটিউট আলাদা মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হবে, বলেন তিনি।
বাংলার পাশাপাশি জীবিকার তাগিদে অন্য ভাষা শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান, যে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি রেমিটেন্স। অন্য ভাষার প্রতি বৈরিতা নয়। মাতৃভাষা শিখতে হবে, সাথে সাথে আমরা অন্য ভাষাও শিখব। জীবন-জীবিকার জন্য অনেক সময় অন্য ভাষা শিখতে হয়। জ্ঞান পিপাসা ও প্রযুক্তির চাহিদা মেটাতেও অন্য ভাষা শেখার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা অন্য ভাষা শিক্ষার বিরোধী না। অন্য ভাষা শিখতে হবে। কিন্তু, মাতৃভাষা ভুললে চলবে না।
দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।