Inqilab Logo

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবন ১৪৩১, ১০ মুহাররম ১৪৪৬ হিজরী

ইইউ দেশগুলোতে নতুন আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হবে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩০ জুন, ২০১৮, ১২:০১ এএম


প্রায় ১০ ঘন্টা আলোচনার পর শরণার্থী ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতৃবৃন্দ। শরণার্থীদের আশ্রয় ও তাদের যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাবটিতে শুক্রবার সকালে ঐকমত্যে পৌঁছান ২৮ দেশের নেতৃবৃন্দ। স¤প্রতি ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা শতাধিক শরণার্থীর একটি জাহাজ ফিরিয়ে দেয় ইতালি। এই শরণার্থীরা ইতালি অভিমুখী ছিল বিধায় তাদেরকে জার্মান দাতব্য সংস্থার জাহাজ লাইফলাইনে করে ইতালির বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ইতালির নতুন ডানপন্থি সরকারের দাবি, ইতালি একা শরণার্থীদের দায় নেবে না। এর জন্য ইউরোপের অন্য দেশগুলোকেও এগিয়ে আসবে। আবার শরণার্থী ইস্যুতে খোদ নিজের শরীক দলের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল। জোটের শরীক সিএসইউ নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সিহোফার জানিয়েছেন, বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে বাভারিয়া রাজ্য সীমান্ত থেকে তিনি শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো শুরু করবেন। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলনের প্রথম দিনেই ইতালি হুমকি দিয়ে বলেছে, শরণার্থী ইস্যুতে তারা সহযোগিতা না পেলে জোটের যৌথ ঘোষণায় তারা ভেটো দেবে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সকালে সমঝোতায় পৌঁছান ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দ। তারা জানিয়েছেন, স্বেচ্ছামূলক ভিত্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে নতুন করে শরণার্থী আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হবে। এই কেন্দ্রগুলোতে কারা সত্যিকারের শরণার্থী ও কারা অনিয়মিত শরণার্থী তা যাচাই-বাছাই করা হবে। সেখান থেকেই অনিয়মিত শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো হবে। ম্যারাথন বৈঠকের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেছেন, ‘ইউরোপীয় সহযোগিতা একে সম্ভব করেছে।’ শরণার্থী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কঠোর প্রহরা এবং তুর্কি, মরক্কো ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোকে আরো বেশি আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছেন ২৮ টি দেশের নেতৃবৃন্দ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, মূলত আফ্রিকা থেকে অভিবাসীরা ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে তাদের প্রবেশপথ থাকে ইতালি। ইতালিই তাই সবচেয়ে বেশি অনড় ছিল এই ইস্যুতে। তারা জানায়, সংকট সমাধানে তাদের পাশে না দাঁড়ালে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করবে তারা। অভিবাসন ইস্যুতে বিভক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কেন্দ্রীয় দেশগুলো অভিবাসীদের নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আফ্রিকা থেকে প্রবেশমুখ হওয়াতে গ্রিস ও ইতালিতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী প্রবেশ করেছে। তারা ইউরোপের অন্যান্য দেশেও অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার আহŸান জানালেও মাঝামাঝি থাকা দেশগুলো মানছে না। এই সংকট কাটাতেই বারবার আলোচনায় বসছে ইইউ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেছেন, এই বৈঠকে ইউরোপের ঐক্য ফিরে এলো। ২৮টি দেশের নেতৃবৃন্দ একমত হয়েছেন যে তাদের সীমান্ত আরও জোরদার করতে হবে। তুরস্ক ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে আর্থিক সহায়তা বাড়াতে হবে। তবে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে অভিবাসন কেন্দ্র স্থাপন অনেক কঠিন হবে। তাই মরক্কো এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। এছাড়া সাগর ও স্থলপথে অভিবাসীদের ইউরোপে যাওয়ার যে রুট তৈরি হয়েছে তা প্রতিহত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে। এএফপি, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইইউ দেশগুলোতে
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ