Inqilab Logo

রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০, ১৪ শাবান সানি ১৪৪৫ হিজরী

প্রশ্ন : আমরা শুনেছি যে, হযরত আবদুল কাদির জিলানী রহ. এর নাম সম্মানের সাথে না নিলে নাকি শরীরের একটি লোম ঝরে যায়। এ কথার সত্যতা কতটুকু?

| প্রকাশের সময় : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১২:০০ এএম

উত্তর : এ কথার সত্যতা জানার উপায় কি? কোরআন ও হাদীসে এমন কোনো নিয়মের উল্লেখ নেই যে, একজন বুযর্গ ওলী বা দরবেশের নাম সম্মানের সাথে না নিলে দেহের লোক ঝরে যায়। অবশ্য ওলী দরবেশগণের অসম্মান শরীয়তে নিষিদ্ধ। হযরত বড় পীর রহ. এর সম্পর্কে এসব কথা তার মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নয় বরং তার দীনি অবস্থানকে নষ্ট করার লক্ষ্যেই ছড়ানো হয় বলে আমাদের বিশ্বাস।
প্রশ্ন : নামাজে তাশাহুদ পড়ার সময় আঙ্গুল তুলতে হয় কেন? আঙ্গুল তোলা কি?
উত্তর : নামাজ সম্পর্কিত হাদীসে এ বিষয়টি আছে। তাশাহ্হুদ মূলত সাক্ষী। সাক্ষী দেওয়ার আদি বিধান হলো এ (শাহাদত) আঙ্গুল উঠিয়ে কথাটি বলা। নবী করিম সা. ও সাহাবায়ে কেরাম নামাজে এমন করতেন। এটি সর্বসম্মতিক্রমে মুস্তাহসান। সুন্নত আমল হিসাবে এর বিভিন্ন পদ্ধতি মুসলিম বিধানে রয়েছে। সবাই নিজ নিজ আস্থাভাজন মুরব্বী আলেমের কাছ থেকে এর সঠিক প্রক্রিয়াটি জেনে নিবেন।
প্রশ্ন : অজু আছে মনে করে নামাজ আদায় করার পর (ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেলে) বুঝা গেল অজু ভঙ্গ হয়েছিল । এটা কি ধরণের গুনাহ? মুক্তির উপায় কি? জানালে উপকৃত হবো ।
উত্তর : স্মরণ না থাকা বা অনিচ্ছাকৃত ভুল ক্ষমাযোগ্য। এমন হলে নামাজ কাযা পড়ে নিবে। সময় থাকলে অজু করে দোহরিয়ে নিবে। আল্লাহর কাছে তওবা করলে ও ক্ষমা চাইলে আল্লাহ সব গোনাহ মাফ করে দেন। ভুলত্রুটি মাফ করা তো তার খুশির কারণ। আমাদের কাজ তওবা করা। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল না করা।
প্রশ্ন : বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সকল কাজে ছবির প্রয়োজন হয়। তাই একমাত্র রাষ্ট্রীয় কাজে বা অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার হয় শুধু এমন ছবি তোলা বা এর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা জায়েজ হবে কিনা?
উত্তর : শরীয়ত বিবেচনা করে যেসব প্রয়োজনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, অপারগ অবস্থায় সেগুলো পূরণ করতে গিয়ে হয়তো নিষিদ্ধ কাজের গোনাহ হবে না। যেমন আপনি বললেন, রাষ্ট্রীয় কাজের সুবিধার্থে ছবি তোলা। এক্ষেত্রে ছবি তোলা কে জায়েজ বলা হয়েছে। এটি তোলার মাসআলা। তবে, জীবিকা হিসাবে এমন সন্দেহজনক বৈধ কাজ বেছে না নেওয়াই উত্তম। তাছাড়া শরীয়ত নির্দেশিত ছবি ছাড়া অন্যান্য ছবিও তোলার বিষয় সামনে এসে যায়। জীবিকার ক্ষেত্রে ভালোর চেয়ে ভালো উপায় বেছে নেওয়াই উত্তম। কোনোরকম জায়েজ হয়, এমন পেশা একান্ত বাধ্য না হলে গ্রহণ না করাই উচিত। কারো এ পেশা থাকলে চেষ্টা করা উচিত যেন, আরও সন্দেহ মুক্ত ও নির্ভেজাল পেশা পাওয়া যায়।
প্রশ্ন : আমার ১০ বৎসর বয়সী মেয়েকে একজন হাফেজ সাহেব আরবী শিক্ষা দেন। নামাজ শিখাতে গিয়ে তিনি বলেছেন, চার রাকাত বিশিষ্ট সুন্নত নামাজের শেষের দুই রাকাতে সুরা ফাতিহার সাথে অন্য সুরা মিলানোর দরকার নেই। মাসআলাটি কতোটুকু সঠিক?
উত্তর : ফরজ নামাজে প্রথম দু’রাকাতের পর আর সুরা মিলাতে হয় না। শেষ দু’রাকাতে শুধু সুরা ফাতিহা পড়লেই চলে। সুন্নাত নামাজ এমন নয়। সুন্নাতে চার রাকাতেই সুরা মিলাতে হয়। মাসআলা এটিই সহীহ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ