Inqilab Logo

শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৭ বৈশাখ ১৪৩১, ১০ শাওয়াল ১৪৪৫ হিজরী

দেশের মানুষ নয়, সরকারের বশংবদরা বেহেশতে আছে

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ আগস্ট, ২০২২, ১২:০০ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন দেশবাসীর কাছে কৌতুক অভিনেতায় পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন গত শুক্রবার বলেছেন সিঙ্গাপুর নয়, শ্রীলঙ্কাও নয় বাংলাদেশের মানুষ বেহেস্তে আছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নয়, সরকারের বশংবদরা বেহেস্তে আছে, আওয়ামী লীগের ওয়ার্ডের নেতারা এখন কোটিপতি। লাখো কোটি টাকা লুটপাট করে যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, যারা বিদেশে অট্টালিকা তৈরী করেছে সেই টাকা পাচারকারীরা বেহেস্তে আছেন। তবে সে বেহেস্ত সাদ্দাতের বেহেস্ত। অচিরেই সেই বেহেস্ত ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাবে।

গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকো’র ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে জিয়া মঞ্চ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি একথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনের উদ্দেশ্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আপনি তো বাজারে যান না, রিকশাওয়ালার কথা শোনেন না, গরীব মানুষের কথা শোনেন না, একটা ডিমের দাম এখন সাড়ে বারো টাকা, এক হালি ডিমের দাম ৫০ টাকা, এক কেজি ইলিশ কিনতে দুই হাজার টাকা লাগে। সবজী বাজারে এখন আগুন, মানুষ চাল-ডাল-সবজী কিনতে পারছে না। অভাবের তাড়নায় মানুষ সন্তান বিক্রি করছে। জনগণ আপনাদের তৈরী করা আগুনে জ¦লে পুড়ে মরছে। মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্তরা এখন হাহাকার করছে, এগুলো গণমাধ্যমে উঠছে, যদিও গণমাধ্যম চাপে আছে। তারপরেও অনেক কিছু গণমাধ্যমে উঠে আসছে। গোটা দেশে এখন দুর্ভিক্ষের ছায়া বিস্তারলাভ করেছে। আপনারা বেহেস্তের কথা বলে অহংকার করেন, জনগণের টাকা হরিলুট করে আপনাদের অনেক টাকা, আপনারা বেহেস্তে থাকতে পারেন, কিন্তু জনগণ আপনাদের দুঃশাসনের নরকে আছে। মোমেন সাহেব আপনার এই বক্তব্য ক্ষুধার্ত জনগণের সাথে চরম রসিকতা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আপনারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে রাজপথ দখলের হমকি দেন, যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী না থাকে তাহলে আপনারা রাজপথ থেকে ভীত শৃগালের মতো পালিয়ে যাবেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম করে, খুন করে, বিচারবর্হিভুত হত্যা করে, দেশের সম্পদ হরিলুট করে, চুরি করে অহঙ্কার দেখাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া মাঠে নামলে আপনারা তুলার মতো উড়ে যাবেন। আপনাদের দখলে থাকবে রাজপথ! আরে যারা জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলে তাদের দখলে থাকবে রাজপথ। আপনারাতো জনগণের অধিকার ডাকাতি করেছেন। আপনি এত বড় কথা বলেন, আপনার নেত্রীকে ১/১১’র সময় যখন গ্রেফতার করা হয়েছিল, কই তখনতো রাজপথে একটি মিছিল করতে পারেননি। ৫শ লোক নিয়ে রাস্তায় নামতে পারেন নি। ১৫ আগস্টের ঘটনার সময়তো আপনি ছাত্র নেতা কই তখনতো আপনি রাস্তায় নামেননি। আপনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে গুলি করে রাজপথ দখলে রাখবেন, যেভাবে গুলি করে নুরে আলম, আব্দুর রহিমকে হত্যা করা হয়েছে। গুলি করে, হত্যা করে, নির্যাতন করে আর জনগণকে দমিয়ে রাখা যাবে না। আপনাদের পতন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

আরাফাত রহমান কোকো একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক ও নিরহংকার মানুষ ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন রাজনৈতিক কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন আন্দোলন করছিলেন, তখন শেথ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে বালুর ট্রাক দিয়ে বন্দী করে রেখেছিলেন মায়ের সে দুর্দিন তাঁর ছোট সন্তান মেনে নিতে পারেননি। সেদিন মানসিকভাবে চাপে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছিল। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রিজভী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ