বিএনপির মানববন্ধন আজ, পাল্টা কর্মসূচি আওয়ামী লীগ
সারা দেশের মহানগর ও জেলা পর্যায়ে আজ মানববন্ধন করবে বিএনপি ও তার মিত্ররা। আর এ
বেড়াতে আসা এক নারী পর্যটক গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর কক্সবাজারে পর্যটক নিরাপত্তা নিয়ে চরম ক্ষোভ ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি পর্যটন নগরীতে গলাকাটা বাণিজ্যের খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই ঢাকা থেকে বেড়াতে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ওই গৃহবধূ। এই ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার করে কঠিন শাস্তি ও পর্যটক নিরাপত্তার দাবিতে তোলপাড় চলছে ফেসবুকে।
গত বুধবার রাতে শহরের লাবনী পয়েন্ট থেকে তুলে নিয়ে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ বখাটেরা। পরে ‘জিয়া গেস্ট ইন’ নামের হোটেল থেকে তাকে উদ্ধার করে র্যাব-১৫।
সৈকত এলাকায় পর্যটককে ধর্ষণের ঘটনায় এখন তোলপাড় চলছে সারাদেশেই। সেইসাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যেমেও সৈকত এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ট্যুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকে।
গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় পর্যটনে কি ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে তার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন অ্যাডঃ রুহুল আমিন। আক্ষেপ করে তিনি লিখেছেন, ‘‘আহারে, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হলেও ধর্ষণ থামছে না। ট্যুরিস্ট এরিয়ায় ট্যুরিস্ট ধর্ষণের ঘটনায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার আগে অনেকবার ভাবতে হবে। দ্রুত অভিযুক্তদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হউক। ট্যুরিস্ট এরিয়ায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হউক।’’
হাশিবুল ইসলাম লিখেছেন, ‘‘মামলা করা এবং অপরাধীকে ধরাটাই প্রকৃত সফলতা নয় কারন যা ক্ষতি হওয়ার তা তো হয়েই গেল,আসল সফলতা হলো সমাজে এই ধরনের অপরাধ ঘটতে না দেয়া বা নুন্যতম পর্যায়ে রাখা। এক্ষেত্রে আল্লাহপ্রদত্ত ইসলামি জীবন ও সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ইসলামি আইন-কানুনের সঠিক প্রয়োগ ছাড়া এই ধরনের অপরাধকে নুন্যতম পর্যায়ে রাখার বিকল্প আর কিছু নেই।’’
অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন বহু মানুষ। মোহাম্মাদ হান্নান লিখেছেন, ‘‘পর্যটক হয়রানিতে এবং যেসব প্রতিষ্ঠান সহায়তা করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক যাতে করে বাংলাদেশের সৌন্দর্য মন্ডিত কক্সবাজারে কোন ধরনের পর্যটক হয়রানি বা এরকম নির্মম নির্যাতনের শিকার না হয়।’’
কবির আহমেদের অভিযোগ, ‘‘কক্সবাজার হোটেল মোটেল ইনফরমেশন গ্রুপে এমন অনেক উদাহরণ আছে। গোসল করতে নেমে অনেকেই হ্যারেজমেন্ট এর শিকার হয়। এইটা প্রতিদিনের ব্যাপার হয়ে গেছে। এখনতো ব্যাপারটা আরো একধাপ এগিয়ে গেলো। কক্সবাজার এর পর্যটন খাত নষ্ট হতে আর বেশি সময় বাকী নেই যদি এখনি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়।’’
টাঙ্কু কুমার দেব মনে করেন, ‘‘এই বিষয়টিকে খাটো করে না দেখে গ্রেফতারপূর্বক দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। নয়তো বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ব্যাপক ক্ষতি এবং সামাজিক অবক্ষয় ঘটবে।’’
কক্সবাজারে একের পর এক নেতিবাচক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। ইমরান হোসাইন টিটন লিখেছেন, ‘‘অপহরণ, ধর্ষণ, পন্যের মূল্য বৃদ্ধি, রেষ্টুরেন্টে খাবারের দাম বেশি নেয়া ও হোটেল কতৃপক্ষের ভাড়া ডাকাতি এই সমস্ত কারনে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প সহসায় ধ্বংসের মুখে পড়বে।’’
দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।