Inqilab Logo

শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪, ১৫ আষাঢ় ১৪৩১, ২২ যিলহজ ১৪৪৫ হিজরী

আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের : জনগণের ঐক্যের বিজয় সুনিশ্চিত -ড.কামাল হোসেন

বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার ৭দফা ও ১১ লক্ষ্য

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৩ অক্টোবর, ২০১৮, ৯:৫৯ পিএম | আপডেট : ৯:৫৯ পিএম, ১৩ অক্টোবর, ২০১৮

অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ৭ দফা দাবি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’র যাত্রা শুরু হয়েছে। এ ঐক্যফ্রন্টে কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া, আসম আবদুর রবের ও মাহমুদুর রহমান মান্নার যুক্ত ফ্রন্ট এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সন্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা দিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, কোনো দলের স্বার্থে নয়, জাতির স্বার্থে ১৬ কোটি মানুষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। জনগনের অধিকার, জনগনের মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আজকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যাত্রা শুরু করছি। আশা করছি এটা সফল হবে। জনগণের ঐক্য কখনো ব্যর্থ হয়না। জনগণের ঐক্যের বিজয় সুনিশ্চিত। তিনি জনে জনে ঐক্য, ঘরে ঘরে ঐক্য ঘরে তোলার আহবান জানান।
তিনি বলেন, আজকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি, যুক্তফ্রন্টের আসম আবদুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্না আছেন। আমরা আশা করি বি চৌধুরী ও মান্নান সাহেব এর সাথে যুক্ত হবেন। যারা ঐক্য ফ্রন্টের বাইরে আছেন সেসব রাজনৈতিক দল যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শক্তি, সংগঠন, পেশাজীবী, মানবাধিকার সংগঠন, সামাজিক ব্যক্তিগণ সকলে এই ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত হবেন বলে আমি আশা করছি।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে ড. কামাল হোসেন বলেন, আমাদের ভয় দেখাবেন না। বঙ্গবন্ধু কোনদিন স্বৈরশাসককে ভয় করেননি। আমি বঙ্গবন্ধুর একজন ঘনিষ্ট কর্মী হিসেবে বলছি, কোন ভয়ে কাজ হবে না। আমাকে গুলি করবেন, করুন। তবুও জনগনের ভোটের অধিকার আদায় ছাড়া ঘরে ফিরবো না। ট্যাংক, গ্রেনেড, বোমা কত আছে নিয়ে আসুন। কোটি কোটি জনতার ঐক্যের কাছে এসব কিছু না। তাই বলছি হুমকি দিয়েন না। আমরা চাই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ অবাধে ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। ড. কামাল হোসেন বলেন, আজ থেকে আমাদের সারাদেশে ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। এই ঐক্যে সকল শ্রেণী পেশার সবাই যুক্ত হওয়াও তিনি আহবান জানান।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ এই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নবসূচনা হলো। গণতন্ত্রের জন্য আমরা ১৯৭১ যুদ্ধ করেছি। সেই গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত। জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে যে আন্দোলন হবে তাতে স্বৈরাচারের পতন হবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশের জনগণ আজ পরিবর্তন চায়। এই দুর্বিসহ দুশাসন থেকে মুক্তি চায়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সেই মুক্তির বার্তা নিয়ে দেশবাসীর সামনে হাজির হয়েছে। এই ঐক্যের মাধ্যমে আমরা গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে আজ সিন্দাবাদের ভুত চেপে বসেছে। দেশবাসীকে ঐক্যবব্ধ না হলে এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়া যাবে না। এসময় তিনি ঐক্যফ্রন্টের ঘোষনাপত্র পাঠ করে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সমূহ তুলে ধরেন।
নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ সারাদেশে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা একযোগে সফর শুরু করবেন বলে ঘোষণা দেন জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব। তিনি বলেন, আমরা শিগগিরই কর্মসূচি ঘোষণা করবো। কুটনীতিকদের সাথে আমরা মতবিনিময় করবো, সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করবো, সকল পেশার মানুষের সাথে আমরা আলোচনা করবো।
৭ দফা ও ১১টি লক্ষের ভিত্তি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পথ চলা শুরু হয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের সে ৭দফা হলো-

১.অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।

২. গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ের নির্বাচন কমিশনের পূনর্গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

৩. বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনের লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

৪. কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের অভিযোগে ছাত্র-ছাত্রী সাংবাকিসহ সবার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালো আইন বাতিল করতে হবে।

৫. নির্বাচনের ১০ দিন পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।

৬. নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোট কেন্দ্র, পোলিং বুথ, ভোট গণনাস্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশের ওপর ওপর কোনো ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ না করা এবং নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে।

৭. তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা এবং নতুন কোনো মামলা না দেওয়ার নিশ্চিয়তা দিতে হবে।

১১টি লক্ষ্যসমূহ হলোঃ

১.মুক্তিসংগ্রামের চেতনাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান স্বেচ্ছাচারি শাসন ব্যবস্থার অবসান করে সুশাসন, ন্যায় ভিত্তিক, শোষনমুক্ত ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা, এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতার অবসানের জন্য সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনাসহ প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ ও ন্যায়পাল নিয়োগ করা।

২. ৭০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের যুগোপযোগী সংশোধন করা, জনগনের ক্ষমতা নিশ্চিত করাসহ সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানসমূহের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দলীয় নিরপেক্ষ ও সৎ যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের জন্য সাংবিধানিক কমিশন ও সাংবিধানিক কোর্ট গঠন করা।

৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের নীতিমালা প্রণয়ন ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা।

৪. দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত, দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন ।

৫. দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি, বেকারত্বের অবসান ও শিক্ষিত যুবসমাজের সৃজনশীলতা ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কোটা সংস্কার করা।

৬. সকল নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চয়তার বিধান করা, কৃষক, শ্রমিক ও দরিদ্র জনগনের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও পুষ্টি সরকারে অর্থায়নের সুনিশ্চিত করা। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।

৭. জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন,, স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে দুর্নীতি ও দলীয়করনের কালো থাবা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন করা।

৮. রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনগনের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও সামাজিক বাংলাদেশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাংকসহ রাষ্ট্রের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শৃঙ্খলা আনা, জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বন্টন, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দুরীকরণ ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। নিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবনমান নিশ্চিত করা এবং দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন মজুরী কাঠামো নির্ধারণ করা।

৯. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সা¤প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যমত গঠন এবং প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল এবং কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। কোনো জঙ্গি গোষ্টিকে বাংলাদেশের ভুখন্ড ব্যবহার করতে না দেয়া।

১০. সকল দেশের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়- এই নীতির আলোকে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করা। প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে পারস্পরিক সৎ প্রতিবেশি সুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বানিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আন্তরিকতা পূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহন করা।

১১. বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষের ন্যায় সঙ্গত অধিকার ও সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে ফেরত ও পূর্ণবাসনে কুটনৈতিক তৎপরতা জোরদার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষন, প্রযুক্তি ও সমর সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যাস্টিার মওদুদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেএসডির সভাপতি স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক আ স ম আবদুর রব, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, ডা. জফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, এখ্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন, সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, ফজলুর রহমান প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহম্মদ মনসুর আহমেদ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ