পটুয়াখালীর যুবক ক্বারী সাইয়্যেদ মুসতানজিদ বিল্লাহ রব্বানীর কোরআন তেলাওয়াতে মুগ্ধ যুক্তরাষ্ট্রবাসী
ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিকাশে বাংলাদেশের অবদান অনস্বীকার্য। এদেশে ইসলামি সংস্কৃতি চর্চার ইতিহাস অনেক প্রাচীন।
স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের ব্যর্থতায় ক্ষমতাসীন দলের ‘নৌকা ডুবে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, নৌকার আশপাশে যারা আছে, তারা কেউ আর ডুবে যাওয়া এই নৌকাকে টেনে তুলতে পারবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে জীবনহানির ঘটনা জানার পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফর বাতিল না করার সমালোচনা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, জনগনের জন্য নয়, আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী বিদেশ ভ্রমনে ব্যস্ত। যেখানে চট্টগ্রামের রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলো ১০টা কত মিনিটের দিকে। সেটা জানার পরও বেলা ১২টার দিকে হাসিনা দেশ ত্যাগ করলেন। কেনো? দেশে এতো বড় ঘটনা, এখন পর্যন্ত ১৫২ জন মারা গেছে। আরো হয়ত মারা যাবে কিংবা অনেকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এতো বড় ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী কিভাবে বিদেশে যান। এটা কী জনগনের প্রতি তার (শেখ হাসিনা) দায়িত্ববোধ? আজকে (শনিবার) তিনি দেশে ফিরেছেন। এসে এখন মায়াকান্না দেখাবেন হয়ত।
গতকাল শনিবার গুলশানের ইমান্যুয়েলস সেন্টারে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) আয়োজিত শোক সভা ও দোয়া মাহফিল এবং ইফতারে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সদ্য মরহুম সভাপতি সভাপতি শফিউল আলম প্রধান স্মরণে এই শোক সভা হয়। এতে প্রধানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনও করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা খালেদা জিয়াসহ জোট নেতারা মোনাজাতে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, নিজেরা হেলিকপ্টারে বিভিন্ন জায়গায় উদ্বোধনের নামে যাচ্ছেন, কিছু উদ্বোধন করছেন। আবার সেখানে ওরা নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের নামে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। নৌকা যে ডুবে গেছে-এটা বুঝতে পারছেন না। এই নৌকা ডুবে গেছে। এই নৌকাকে আর আপনার হাজার লোক দিয়ে টেনেও তুলতে পারবেন না।
তিনি বলেন, নৌকার সঙ্গে যাদের রেখেছেন, আশ-পাশে যারা আছে, আপনার ডানে-বায়ে যারা আছে, যারা অন্য দল করে আপনার দলে এসেছে-তারা কী জিনিস। আপনি কিন্তু নিজেই বলে দিয়েছেন; তারা কী খায়, কী রকম তাদের লাইফ স্টাইল। এসব লোককে দিয়ে দেশের কিছু হবে না। এরা দেশের কিছু করতে পারে না। আপনিও পারবেন না।
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে দাবি পূনর্ব্যক্ত করে বিএনপি প্রধান বলেন, আমি বলব একটা নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন। সেই নির্বাচন হতে হবে সহায়ক সরকারের অধীনে। হাসিনার অধীনে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। কোনো দলও সেই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না। হাসিনাকে বাদ দিতেই হবে, ক্ষমতা থেকে তাকে সরে দাঁড়াতেই হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, আগামীতে সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটার ভোট দিতে যাবে। সকলে এটা চায়। সারা পৃথিবীর মানুষ এটা চায়। ইনশা আল্লাহ বাংলাদেশে সেই নির্বাচন হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, সেই নির্বাচনের ফলাফল আপনারা বুঝতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট জিতে এসে এদেশের মানুষকে যা যা ওয়াদা করেছি আমরা আমাদের ভিশন ২০৩০ এ, সব কিছু করবো। আরো কিছু করার আছে, আমরা তাও করব।
তিনি বলেন, সামনে ঈদ। এই ঈদের মানুষ দেশে যায়। দেখেছেন আজকে রাস্তাঘাটের যে দুরাবস্থা। গতকাল পত্রিকায় ছবি দিয়েছে পাঁচ ঘন্টার রাস্তা দিয়ে ১০ ঘন্টায় অতিক্রম করতে হচ্ছে। আর যানজট থাকলে ১৫-২০ ঘন্টা লেগে যায়। গাড়ীতে যাত্রীরা কী দুরাবস্থার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। দেশের প্রতিটি মহাসড়কে পাবলিক টয়লেট করা উচিৎ বলেও মনে করেন তিনি।
পার্বত্য জেলায় পাহাড়ীধসে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যেভাবে ভূমিধসে মানুষগুলো মারা গেলো, তাদের উদ্ধার করা, তাদের পূর্ণবাসনে বর্তমান সরকারের কোনো চিন্তাভাবনা আমরা দেখছি না। কোনো দায়িত্ববোধও দেখছি না।
চালের ম্ল্যূ বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, চালের দাম যে এতো বৃদ্ধি হয়েছে তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না সরকার। কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। দেশে সবচেয়ে নিম্নমানের মোটা চালের দাম হলো ৫০ টাকা কেজি। এছাড়া সব জিনিসের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির দাম বেড়েছে।
বাজেটের সমালোচনা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটে কত কর বাড়িয়েছে, ভ্যাটের পরিধি বাড়িয়েছে। যে ১৫% ভ্যাট প্রস্তাব করেছেন, সেটার কোনো প্রয়োজন নেই। ব্যাংকের এক লাখ টাকা জমা রাখলে সেখানে ৮ ‘শ টাকা কেটে নিয়ে যাবে। কোন মানুষের অর্থ থেকে এটা কাটছে? ব্যাংকের টাকা চুরি করেছে, দুর্নীতি হয়েছে। বেসিক ব্যাংকে টাকা লুট হয়েছে। এখন মানুষের পকেট কেটে টাকা তা ব্যাংকে দেয়া হচ্ছে। এসব বন্ধ করুন।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সামনে নির্বাচন। আমি জনগনের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের চেহারা আপনারা ভালোভাবে দেখে নিয়েছেন। তাদের হাত থেকে যদি বাঁচতে চান, সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যারা গণতন্ত্রের পক্ষে, গরীব-সাধারণ মানুষের পক্ষে, সমস্যা-সমাধানের পক্ষে, দেশের শান্তি-উন্নয়নের পক্ষে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে পক্ষে, তাদের পক্ষে থাকুন। সেই রকম দলই হলো বিএনপি ও ২০ দল। যাদের দেশপ্রেম আছে। প্রতিটি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আছে।
জাগপার সভানেত্রী রেহানা প্রধানের সভাপতিত্বে শোক ও স্মরণ সভায় জোট নেতাদের মধ্যে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তাজা, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এমএ রকীব, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন মরহুম শফিউল আলম প্রধানের স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন।
এতে ২০ দলীয় জোট শরিক মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার চৌধুরী বুলবুল, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।
সভার পর মূলমঞ্চে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মরহুম শফিউল আলম প্রধানের সহধর্মিনী অধ্যাপক রেহানা প্রধান, তার মেয়ে ব্যারিস্টার তাহমিয়া প্রধান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার লুৎফর রহমানসহ জোট নেতাদের নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া।
ইফতারে জাগপার সিনিয়র নেতা আসাদুর রহমান খান, আবু মোজাফফর মো. আনাছ, রাকিব উদ্দিন চৌধুরী মুন্না, খন্দকার আবিদুর রহমান, নিজামউদ্দিন অমিত, শেখ জামাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা বেলায়েত হোসেন মোড়ল, শেখ ফরিদ উদ্দিন, নজরুল ইসলাম বাবলুসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।