Inqilab Logo

শুক্রবার, ১০ মে ২০২৪, ২৭ বৈশাখ ১৪৩১, ০১ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিজরী

কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর হার ৫০% কমিয়ে আনে বেক্সিমকোর মলনুপিরাভির

সায়েন্টেফিক সেশনে বললেন চিকিৎসকরা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ নভেম্বর, ২০২১, ৫:৪৭ পিএম

দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে বেক্সিমকো ফার্মা একটি সায়েন্টেফিক সেশনের আয়োজন করে। “কারেন্ট সিনারিও অন কোভিড-১৯” পাওয়ার্ড বাই ইমোরিভির শীর্ষক এই সেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি প্রফেসর ডাঃ মোঃ বিল্লাল আলম। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর ডাঃ এ.বি.এম. আব্দুল্লাহ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিজিএইচএস এর অতিরিক্ত ডিজি ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সেক্রেটারি জেনারেল প্রফেসর ডাঃ আহমেদুল কবির। ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ রিসার্চ সেন্টারের প্রধান প্রফেসর ডাঃ রিদওয়ানুর রহমান “কারেন্ট সিনারিও অন কোভিড-১৯” এর উপর একটি প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন। তার উপস্থাপনায়, তিনি কোভিড-১৯ এর মৃদু থেকে মাঝারি ক্ষেত্রে চিকিত্সার জন্য ওরাল অ্যান্টিভাইরাল থেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং মলনুপিরাভির এখানে একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে বলে জানান।

মৃদু থেকে মাঝারি পর্যায়ের কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিত্সায় মলনুপিরাভির বিশ্বের প্রথম ওরাল অ্যান্টিভাইরাল ঔষধ, যা যুক্তরাজ্যের মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সি (UK-MHRA) দ্বারা ৪ নভেম্বর ২০২১ সালে অনুমোদন পায়। মলনুপিরাভির বর্তমানে বেশ কয়েকটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের দ্বারা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে; যার মধ্যে অন্যতম ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সি (EMA) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইউএস-এফডিএ)।

মৌখিক সেবনের জন্য মলনুপিরাভির বাড়িতে ব্যবহার করা সম্ভব, যা কোভিড-১৯ চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, এটি সংক্রমিত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করতে পারে, তাই অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিও হ্রাস পায়। এমএসডি (মেয়ার্ক শার্প এন্ড ডহমি কর্পোরেশন) কর্তৃক প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, ২৯ দিন পর মলনুপিরাভির নেয়া ৭.৩ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয় যেখানে প্লেসেবো নেয়া ১৪.১ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে জরুরী ভর্তি করাতে হয়েছে। মলনুপিরাভির ভাইরাসের প্রতিলিপির সাথে মিথস্ক্রিয়া ঘটিয়ে কাজ করে থাকে। ফলে এটি ভাইরাসকে প্রতিলিপি সৃষ্টিতে বাঁধা প্রদান করে শরীরে ভাইরাসের মাত্রা কমিয়ে আনতে ও রোগের জটিলতা হ্রাস করতে সহায়তা করে।

ঔষধটির জেনেরিক ভার্সন বাজারজাতকরণের মাধ্যমে বেক্সিমকো ফার্মা এই সম্ভাব্য জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সুযোগটির প্রাপ্যতা ও ব্যয় কমিয়ে আনতে বিস্তর সাহায্য করছে যা দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ও টীকা পায়নি এমন ব্যক্তিদের জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনা চলাকালীন চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন যে, মলনুপিরাভির কোভিড-১৯ চিকিত্সায় একটি 'গেম চেঞ্জার' হতে পারে কারণ এটি মৃদু থেকে মাঝারি কোভিড-১৯ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ হ্রাস করে। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় সময়োপযোগী চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আসায় বেক্সিমকো ফার্মার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন চিকিত্সকরা। তারা মলনুপিরাভিরের দাম সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে রাখার জন্য বেক্সিমকো ফার্মাকে ধন্যবাদ জানান (প্রতি ক্যাপসুল ৪৫ টাকা)।

সমাপনী বক্তব্যে প্রফেসর ড. বিল্লাল আলম অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য সকল অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান এবং স্বল্পতম সময়ে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় সম্ভাবনাময় ওষুধ নিয়ে আসার জন্য বেক্সিমকো ফার্মাকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ডাক্তারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বেক্সিমকো ফার্মার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান বেক্সিমকোর মার্কেটিং ডিরেক্টর জনাব রিজভী উল কবির। তিনি আরও বলেন, বেক্সিমকো মহামারী চলাকালীন সর্বদা চিকিৎসকদের পাশে ছিল এবং সর্বদা থাকবে। বেক্সিমকো ফার্মা ভবিষ্যতে সাশ্রয়ী মূল্যে সর্বাধুনিক থেরাপিউটিক বিকল্প এবং মানসম্পন্ন ওষুধ নিশ্চিত করবে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ