পটুয়াখালীর যুবক ক্বারী সাইয়্যেদ মুসতানজিদ বিল্লাহ রব্বানীর কোরআন তেলাওয়াতে মুগ্ধ যুক্তরাষ্ট্রবাসী
ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিকাশে বাংলাদেশের অবদান অনস্বীকার্য। এদেশে ইসলামি সংস্কৃতি চর্চার ইতিহাস অনেক প্রাচীন।
স্টালিন সরকার
৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী মাঠের বিরোধী দলখ্যাত বিএনপি এখন কি অবস্থায়? কোথাও না থাকা দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমান চালচিত্র তুলে ধরেছেন এভাবে : ‘রাজধানীতে চলাচলের সময় যানজটে গাড়ির সিগন্যালে দাঁড়ালে হকার ছেলেপেলে, ইয়ং ছেলেপেলে সব আসে। তারা বলে, ‘স্যার, আমি বিএনপি করতাম। এত মামলা, পালিয়ে চলে এসেছি, এখন হকারি করছি।’ এভাবেই মামলা-হামলার অত্যাচারে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকায় এসে কেউ হকারি করছেন, কেউ রিকশা চালাচ্ছেন। তার এ বক্তব্যে প্রকাশ পায় সারা দেশের দলটির নেতাকর্মীরা কত দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। অথচ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে যতগুলো জরিপ হয়েছে সেগুলোতে শতকরা ৭০ থেকে ৮০ জন ভোটার ধানের শীষে ভোট দেয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। ক্ষমতাসীনদের জুলুম-নির্যাতনে দলটির যখন চিঁড়েচ্যাপটা তখনো ক্ষমতাসীনদের খুশি করতে কিছু মিডিয়া সিন্ডিকেট রিপোর্ট করে দলটিকে ক্ষতবিক্ষত করছে। ২৪ আগস্ট কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রায় অভিন্ন শিরোনামে ‘ভারতবিরোধী রাজনীতিতে নামছে বিএনপি’ রিপোর্ট করা হয়। ওইসব রিপোর্টে বলা হয় ‘রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদ এবং নামেমাত্র ট্রানজিট মাসুলের প্রতিবাদে সোচ্চার হবে বিএনপি। এ সিদ্ধান্ত দলটির নীতি-নির্ধারকরা নিয়েছেন।’ প্রশ্ন হলো জাতীয় ইস্যু নিয়ে কথা বলা এবং দেশের স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নেয়া কি ভারত বিরোধিতা? তাহলে তো অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনের মতো লোকজন ভারতবিরোধী। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, পঙ্কজ ভট্টাচার্যরা ভারতবিরোধী রাজনীতিক!
ভারতের গোলামি নয় বরং দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করা প্রত্যেক দলের কর্তব্য। দেশের জনগণের ওপর আস্থা না থাকায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা এবং ক্ষমতায় যাওয়ার প্রয়োজনে আমাদের দেশের রাজনীতি কার্যত হয়ে পড়েছে ভারতনির্ভর। দেশপ্রেমের ছদ্মবেশে নেতানেত্রীদের দিল্লি তোষণের প্রতিযোগিতা চলছে উলঙ্গভাবে। দিল্লির সাউথ ব্লককে খুশি করতে হীন কাজ নেই যে, আমাদের দেশের বড় দলগুলো করছে না। দেশ ও জনগণের স্বার্থ শিঁকেয় তুলে বড় দলগুলো নতজানু মানসিকতায় ভারতের তাঁবেদারি করছে। আমাদের নাগরিকরা সীমান্তে বিএসএফের হাতে মারা গেলে নাম দেয়া হয় ‘গরু চোর’। আর ভারতের বনের পশু হাতি বানের পানিতে ভেসে বাংলাদেশে এসে মারা গেলে সম্মান দেখাতে নাম দেয়া হয় ‘বঙ্গ বাহাদুর’।
বেগম জিয়ার উদ্দেশে দেয়া সম্প্রতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর খোলা চিঠি নিয়ে তোলপাড় চলছে। ওই চিঠির এক প্যারায় তিনি লিখেছেন ‘ভারত সুকৌশলে শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ করছে, ভারতের জাতীয় স্বার্থে এবং ভারতকে অখ- রাখার অব্যাহত প্রচেষ্টায়। ৫ জানুয়ারির (২০১৪) ভোটারবিহীন নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার কৃতজ্ঞতায় আওয়ামী লীগ সরকার বন্ধুত্বের নামে নতজানু নীতি মেনে নিয়েছে। মাঝে মধ্যে আপনিও ভারতের সন্তুষ্টি অর্জনে চেষ্টা করছেন, যা দেশবাসীর চোখে সুবিধাবাদী রাজনীতি বলে মনে হয়েছে। এ সরকারের বদান্যতায় প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স যাচ্ছে, প্রতি সপ্তাহে সীমান্তে একজন বাংলাদেশী মারা যাচ্ছে বিএসএফের হাতে, রামপালের উল্টো দিকে পশ্চিম বাংলার সুন্দরবন এলাকা রাঙ্গাবালিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র না করে মাত্র ১৫% মূলধন দিয়ে ভারত আমাদের দেশের রামপালে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আমাদের পরিবেশ ধ্বংস করতে উদ্যত। আপনি এ সম্পর্কে মৃদু প্রতিবাদ করেছেন, আপনার দলকে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির আন্দোলনে ব্যাপকভাবে যোগ দিতে নির্দেশ দেননি। ধারণা করা হয় যে, সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় গোয়েন্দার (র) অনুচর রয়েছে বাংলাদেশে, প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে। তারা গুলশানে জঙ্গি ঘটনা প্রতিহত করেনি। বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাগত সংখ্যালঘু হিন্দুদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়ার বিল ভারত পাস করেছে। জেনারেল মঞ্জুর হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে দীর্ঘ কারাদ-ের ভয় দেখিয়ে এরশাদকে আওয়ামী লীগের অনুগত করিয়েছেন। ভারত যেভাবে মাওবাদী ও অন্যান্য মুক্তিকামী দলের ওপর অত্যাচারের স্টিম রোলার চালাচ্ছে, একই পদ্ধতিতে বাংলাদেশের স্বনির্বাচিত সরকার তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চুপ করাচ্ছে গুপ্তহত্যা ও ক্রসফায়ারে। ভারতের ইঙ্গিতে ১৪-১৫ হাজার বিএনপি কর্মী এখনো জেলে আছে। তাদের পুরো তালিকা আজো প্রকাশিত হয়নি। অন্যান্য রাজনৈতিক দলেরও কয়েক হাজার আছে। পুলিশের ঘুষ-বাণিজ্য বন্ধের বিরুদ্ধে একবারও রাস্তায় নামার চেষ্টা করেননি। আপনাকে বিব্রত করার জন্য সরকার জামায়াত ইস্যু প্রায়ই তুলে ধরছে। আপনি পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ইস্যু এনে যোগ করাচ্ছে। জনগণ পরিবর্তন চায়, দুর্নীতিমুক্ত সুষ্ঠুু গণতন্ত্রের মাধ্যমে মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে দেশবাসী এক কেন্দ্রিকতা থেকেও মুক্তি চায়।’
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এই দীর্ঘ চিঠি শুধু বিএনপির নয়; দেশের সব দেশপ্রেমী রাজনৈতিক দলের নেতাদের নতুন চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে। টিভির টকশোগুলোতে এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ব্লগ, টুইটার ও পাঠক মতামতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সবচেয়ে বেশি পাঠক পড়েন সেই পত্রিকায় রিপোর্ট বের হয়েছে, ‘রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকানা দুই দেশের। অথচ ঋণের দায় বাংলাদেশের রিপোর্টে বলা হয়, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থঋণ নেয়া হবে তার গ্যারান্টার বাংলাদেশ। অথচ বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমান অংশীদার। দেশের সবগুলো পত্রিকায় চট্টগ্রামের অ্যামোনিয়া গ্যাস দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে খবর বের হয়েছে। সচিত্র খবরে বলা হয় অ্যামোনিয়া গ্যাসের একটি ট্যাংক বিস্ফোরণে শুধু মানুষ অসুস্থ হয়নি নদীতে কোটি কোটি টাকার মাছ মরে গেছে। চট্টগ্রামের বিশাল এলাকার জীব-বৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একটি অ্যামোনিয়া গ্যাসের ট্যাংকি ভেঙে যাওয়ায় এই বিপর্যয়; আর রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্ঘটনা ঘটলে তা কত ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে তা কি অনুমান করা কঠিন? কয়েকদিন আগে একটি হাতি নিয়ে ৪৮ দিন এমন কা- ঘটল; সুন্দরবনে পরিবেশ বিপর্যয়ে যদি সেখাকার বাঘ-সাপ-কুমির লোকালয়ে এসে পড়ে তাহলে কি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে চিন্তা করা যায়? সুন্দরবন বাঁচাতে দীর্ঘদিন থেকে দেশের বুদ্ধিজীবী ও বাম দলগুলো আন্দোলন করছে। তারা কয়েক দফায় লং-মার্চও করেছে। দেশপ্রেমী দল হলে বিএনপিরও উচিত ছিল সে আন্দোলনে শরিক হওয়া। সুন্দরবন বাঁচাতে ওই আন্দোলনে শরিক হলে বিএনপির রাজনীতি ভারতবিরোধী হবে কেন?
জনমত উপেক্ষা করে বাংলাদেশের উপর দিয়ে ভারতকে ট্রানজিটের নামে করিডোর সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই ট্রানজিট দেয়ার আগে মাশুল নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি প্রতি মেট্রিক টন পণ্যের জন্য ৯৮২ টাকা মাশুল নির্ধারণ করে। অথচ দিল্লিকে খুশি করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সে মাশুল কমিয়ে ১৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ভারতকে ট্রানজিট দেয়ায় বাংলাদেশ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭ রাজ্যের স্বাধীনতাকামীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে। অথচ নামেমাত্র মাশুলে ট্রানজিট দেয়া হলো। এই ট্রানজিট দেয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া কি ভারতবিরোধী রাজনীতি?
বাংলাদেশের তিন দিকেই ভারত। ভারতের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাংলাদেশের উপর দিয়ে ট্রানজিট পেয়েছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দর ব্যবহার করে সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত ৭টি রাজ্যে সহজে মালামাল পরিবহন করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা বিঘিœতের আশঙ্কার মধ্যেই সেটা দেয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য দিল্লিকে তুষ্ট করে ক্ষমতায় থাকা। ভারতের চাহিদা অনুসারে অনুপ চেটিয়াসহ আসামের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গ্রেফতার করে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। ভারত তার চাওয়ার সবই পাচ্ছে, কিন্তু কিছুই দিচ্ছে না বাংলাদেশকে। ভারত পদ্মার উজানে ফারাক্কায় বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে পানিতে মারছে, তিস্তার পানি দিচ্ছে না, চুক্তিও করছে না। সিলেটের উত্তরে নির্মাণ করছে টিপাইমুখ বাঁধ। সীমান্তে বিএসএফ প্রায়ই এদেশের নিরীহ মানুষদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করছে। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পণ্য পরিবহন করছে কোনো ফি ছাড়াই। ভারতের প্রতিটি টিভি চ্যানেল বাংলাদেশের আকাশে উন্মুক্ত; বাংলাদেশের একটি টিভি চ্যানেলও ভারতের আকাশে উন্মুক্ত নয়। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। বৈধ-অবৈধভাবে বাংলাদেশে ভারতের লাখ লাখ নাগরিক চাকরি-ব্যবসা করছে। টেলিফোন, গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, গাড়ি সব ব্যবসাই এখন ভারতীয়দের কব্জায় চলে গেছে। যেসব ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি সেসবে এদেশীয় নিজস্ব তাঁবেদার সৃষ্টি করে তাদের নিয়ন্ত্রণে দিয়েছে। সুন্দরবনে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে, এতে সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য ধ্বংস হবে; বিপর্যয় ঘটবে পরিবেশের। বাংলাদেশ সরকারের সাথে কোনো ধরনের লিখিত চুক্তি ছাড়াই ভারত নারায়ণগঞ্জে কন্টেইনার পোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব নিয়ে কথা বলা এবং প্রতিবাদ করা কি ভারতবিরোধী রাজনীতি? নাকি দেশের দেশপ্রেমী সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব-কর্তব্য রাজনীতিতে দেশের জাতীয় স্বার্থগুলোকে প্রাধান্য দেয়া।
২৩ আগস্ট এ্যাব আয়োজিত সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় নেতাকর্মীদের দুঃখ-দুর্দশার দুর্বিষহ জীবনচিত্র তুলে ধরতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তিনি যেমন কেঁদেছেন উপস্থিত অন্যদেরও কাঁদিয়েছেন। অথচ কিছু মিডিয়া এ নিয়ে রসগল্প প্রচার করছে। সাজাপ্রাপ্ত হয়েও সংবিধান লঙ্ঘন করে মন্ত্রিত্ব করছেন এমন একজন মন্ত্রী উল্টো হুমকি দিয়েছেন এই বলে যে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আরো কাঁদতে হবে। কোনো কলামিস্ট লিখেছেন বিএনপিই অন্য দলকে কাঁদায়। কেউ ৯৩ দিন অবরোধের কাহিনী তুলে ধরে বিভিন্ন হত্যকা-ের জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন। ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের দামাল ছেলে মুক্তিযোদ্ধাদের দায়ী করতেন। বিএনপিকে দোষারোপ করে নানা কিসিমের লেখা ছাপা হয়েছে পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায়। বিএনপিবিরোধী সিন্ডিকেটের এই সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী ও তাঁবেদার প্রবন্ধকারেরা ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের উপর কথিত নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছে বিভিন্নভাবে। ভিডিও তৈরি করে প্রচার করে মায়াকান্না করেছে। অথচ ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর খুন, গুম, অপরহণ হওয়া শত শত পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি জানানোর জন্য আলোচনা সভা করার চেষ্টা করলেও সে সুযোগ দেয়া হয়নি। স্বজন হারানোর বেদনায় মানুষকে কাঁদতে পর্যন্ত দেয়া হয়নি; কারণ তারা বিএনপির রাজনীতির প্রতি সহানুভূতিশীল। যেসব মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবী-কাম তাঁবেদার চায় ক্ষমতাসীনদের মতো জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী বিএনপিও দিল্লির তাঁবেদারি রাজনীতি করুক। বিএনপি নতুন কমিটি ঘোষণার পর তারা এখন প্রচার করছে দলটি ভারতবিরোধী রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছে। প্রশ্ন হলো দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করা কি ভারতবিরোধী রাজনীতি?
দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।