পটুয়াখালীর যুবক ক্বারী সাইয়্যেদ মুসতানজিদ বিল্লাহ রব্বানীর কোরআন তেলাওয়াতে মুগ্ধ যুক্তরাষ্ট্রবাসী
ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিকাশে বাংলাদেশের অবদান অনস্বীকার্য। এদেশে ইসলামি সংস্কৃতি চর্চার ইতিহাস অনেক প্রাচীন।
স্টাফ রিপোর্টার : সমালোচনাকারীরাই ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পটভূমি তৈরী করেছিলো মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনারা একটু হিসাব করে দেখেন, কতোগুলো বছর একটানা জেলে ছিলেন তিনি (বঙ্গবন্ধু)। কষ্ট করে দেশটা স্বাধীন করলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছর তিনি সময় পেয়েছিলেন। সেই সময়েও অনেকে তো সহযোগিতা করেননি বরং এটা হচ্ছে না, ওটা হচ্ছে না, বলে বলে- এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল যা ’৭৫ এ পটভূমি তৈরি করে দিয়েছিল। বাংলাদেশের কত বড় সর্বনাশ যে তারা করেছিলো। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছিল ৭৫ এর হত্যাকান্ডের পর আবার ঘাতকের দেশ হিসেবে পরিচিতি পেলো।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘৭৫ এর খুনি আর একাত্তরের পরাজিত শক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, একজন মানুষ মাত্র ৫৪ বছর বেঁচেছিলেন। এই সময়ে তিনি দুইটা স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু ৭৫’র পরে তার এই ভাষণও বাজাতে দেয়া হতো না। এই ভাষণ বাজাতে গিয়ে ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের কত নেতাকর্মী হত্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একটা সময় বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়াটাই যেন নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। অনেকগুলো ছবির মাঝে বঙ্গবন্ধুর ছবিটা লুকিয়ে রাখতে হতো। কিন্তু কেন? তার অপরাধ কি ছিল? তার অপরাধ ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর শোষণের হাত থেকে একটা জাতির স্বাধীনতা এনে দেয়া। আসলে পাকিস্তানী হানাদার আর তাদের দোসর বিএনপি-জামায়াতদের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না।
বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমার সোনার বাংলা গানটি যে জাতীয় সংগীত করবেন এই সিদ্ধান্তও কিন্তু বহু আগে নেয়া ছিল। ‘জয় বাংলা শ্লোগান’। এই শ্লোগানটা মাঠে নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল ছাত্রলীগকে। তোমরা এটা মাঠে নিয়ে যাও। সব চাইবে বড় হলো মানুষকে তৈরি করা। এই প্রস্তুতিটা কিন্তু তিনি আগেই নিয়েছিলেন এবং যখন নির্বাচন হলো ৭ ডিসেম্বর শক্তিশালী নির্বাচন হলো। জানুয়ারি গেল ফেব্রুয়ারি গেল। কিন্তু ক্ষমতা তারা দিল না। বঙ্গবন্ধু জানতেন যুদ্ধ অবধারিত। একটা যুদ্ধ করতে গেলে তার প্রস্তুতি লাগে। লন্ডনে বসে তখনই তিনি যুদ্ধ করতে গেলে ট্রেনিং কোথায় হবে? অস্ত্র কোথা থেকে আসবে? শরনার্থী গেলে তাদের থাকার ব্যবস্থা কি হবে। সে সব পরিকল্পনা তিনি করে এসেছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, কিন্তু তিনি (বঙ্গবন্ধু) সব সময় তার বক্তৃতা এমনভাবে রাখতেন যে পশ্চিমারা এতটুকু সন্দেহ করতে না পারে, ধরতে না পারে তিনি করতে যাচ্ছেন। এটাই একজন রাজনৈতিক নেতার দূরদর্শিতা। আমাদের কোনো কোনো নেতা তো বলেই ফেলেছেন ভোটের বাক্সে লাথি মারো বাংলাদেশ স্বাধীন করো। ভোটের বাক্সে লাথি মেরে কখনো কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন করা যেত না। কেউ কেউ আসলামু আলাইকুম বলে পাকিস্তানকে বিদায় করেছেন। কিন্তু পাকিস্তান বিদায় হয়নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু জানতেন কি করতে হবে।
৭ মার্চের ভাষণের পটভ‚মি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৬২ সাল থেকেই একেবারে মহকুমা এবং থানা পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রলীগের মাধ্যমে তিন সদস্যবিশিষ্ট নিউক্লিয়াস গঠন করে তিনি প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। যখন রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল তখনো তিনি এটা করেছিলেন। মূল ভাষণ মূলত ছিল ২৩ মিনিটের। আমি ওই মাঠে উপস্থিত ছিলাম। রেকর্ড করা হয়েছিল, ১৮/১৯ মিনিটের। সেই ভাষণে ২৩ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস, সবকিছু বিবৃত করে ভবিষ্যতে কী করতে হবে, একটা গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি কিভাবে নিতে হবে, সেটা তিনি তার ভাষণে বলে গিয়েছিলেন। অসহযোগ আন্দোলন, ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ মনে হয়েছিল বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একাট্টা হয়ে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, মঞ্চ দেখলেও বুঝবেন, তেমন কোনো প্রস্তুতি ছিল না। একটা উঁচু মঞ্চ আর একটা মাইক। এই ভাষণের জন্য আমাদের অনেক জ্ঞানী-গুণী নেতা কেউ চিরকুট দিচ্ছেন, কেউ বলে যাচ্ছেন, নেতা এটা করতে হবে, এটা বলতে হবে। এখানে আমি বলবো, সব থেকে বড়ো অবদান মায়ের। আমার মা কিন্তু জনসম্মুখে আসেননি।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের সেই দিনের স্মৃতি চারণ করে তার কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের আগে বাবা বের হবেন। আমার মা বলেছিলেন, অনেকে অনেক কিছু বলে দিয়েছে, লিখে দিয়েছে। কিন্তু তুমি জানো কী বলতে হবে। তুমি জানো; একমাত্র তুমি জানো, তোমার মনে ঠিক যে কথাগুলো আসবে তুমি ঠিক সেই কথাগুলোই বলবে। আমার মনে আছে, উনি কথা শুনে হাসলেন, তারপর মাঠের দিকে রওয়ানা করলেন। পিছন পিছন আমি রেহানা আরেকটা গাড়িতে গেলাম।
‘ভাষণ শেষ করে উনি যখন আসলেন, তখন মানুষে মানুষে সয়লাব ছিল এলাকা। আমি যখন ঘরের মধ্যে ঢুকলাম, ঠিক সেইসময় দেখি, আমাদের কতোজন ছাত্রনেতা হঠাৎ দেখি বেশ উত্তেজিত। তারা বলছেন, লিডার এটা কী করলেন আপনি, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে আসলেন, সবাই খুব হতাশ। আমি তখন বললাম, আপনারা এরকম মিথ্যা কথা বলেন কেনো, আমি মানুষের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখে আসলাম, সেখানে কিন্তু কোনো হতাশা দেখিনি। আমি বললাম, আব্বা আপনি এদের কথা বিশ্বাস করবেন না। আমি নিজে দেখে আসলাম, মানুষ শ্লোগান দিতে দিতে উৎফুল্ল হয়ে পড়েছে শহরে। আমি এখন মনে করি, তারা ওই কথা কেনো বলেছিল, এটা নিয়ে এখন চিন্তা করার আছে। তাহলে তারা কাদের হয়ে ওই কথা বলেছিল। কারণ বঙ্গবন্ধু তো জানতে কিভাবে মানুষের মুক্তি আসবে।
স্বাধীনতা ঘোষণার যে বাণীটা আপনারা পান সেটা আগেই প্রস্তুত করা ছিল। এখন ৩২ নাম্বারের লাইব্রেরীতে যে টেলিফোনটা ছিল। সেই টেলিফোন দিয়ে শওকত সাহেবের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তাদের নির্দেশ দেয়া ছিল, আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে বার্তাটা পৌঁছে দেয়ার জন্য। বার্তাটা দেয়ার পরপরই আমদের বাড়িতে আক্রমণ করে এবং বঙ্গবন্ধুকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি জনমত নিয়ে নিয়েছিলেন। কারণ ৭০-এর নির্বাচনের আগে অনেকে বাধা দিতো, কিন্তু তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের নেতা কে এটা জনগণ আগে ঠিক করে দিক। ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি জনমতটা নিয়ে নিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আমার একটা আকাক্সক্ষা ছিল- আমাদের নতুর প্রজন্মের যারা ইতিহাস বিকৃতির সময় বেড়ে উঠেছে। তাদের মনের আকাক্সক্ষা কি? আজকের মূল প্রবন্ধের মধ্য দিয়ে তা জানা হলো। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন বাঙালীর হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু থাকবে। এর আগে অনুষ্ঠানে শুরুতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো হয়। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, সমাজকল্যাণের শিক্ষক ড. জিনাত হুদা, অধ্যাপক এ আরাফাত, ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী মাসুরা হোসেন, শিল্পী হাসেম খান প্রমুখ।
দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।