পটুয়াখালীর যুবক ক্বারী সাইয়্যেদ মুসতানজিদ বিল্লাহ রব্বানীর কোরআন তেলাওয়াতে মুগ্ধ যুক্তরাষ্ট্রবাসী
ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিকাশে বাংলাদেশের অবদান অনস্বীকার্য। এদেশে ইসলামি সংস্কৃতি চর্চার ইতিহাস অনেক প্রাচীন।
দেশবরেণ্য রাজনীতিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কুলখানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রংপুরে জামাজে জানাজার মতোই কুলখানিতে মানুষের ঢল নেমেছিল। গতকাল বুধবার গুলশান আজাদ মসজিদে এই কুলখানির আয়োজন করা হয়। এসময় বক্তারা বলেছেন, এরশাদ ইসলামের জন্য যা করেছেন সে জন্যই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। এরশাদ একজন মার্জিত ব্যাক্তি এবং তার শালীনতা সৌজন্যবোধের কাছে শেখার অনেক কিছুই রয়েছে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।
গুলশানের আজাদ মসদিজে অনুষ্ঠিত কুলখানিতে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক অংশ গ্রহণ করেন। কুলখানিতে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন আওয়ামী লীগ নেতা বরেণ্য রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, মোহাম্মদ. নাসিম, প্রখ্যাত রাজনীতিক নুরে আলম সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ এরশাদের দুই পুত্র শাহতা জারাব এরিক এরশাদ, রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদার, মসিউর রহমান রাঙ্গা, কাজী ফিরোজ রশিদ, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, আবু হোসেন বাবলা, এটিইউ তাজ রহমান, কাজী মামুনুর রশিদ, দৈনিক দিনকালের প্রতিষ্ঠাত সম্পাদক এম এ জিন্নাহ, দৈনিক ইনকিলাবের ক্রীড়া সম্পাদক রেজাউর রহমান সোহাগ, ছাত্রনেতা হাসান মঞ্জুর প্রমূখ। কুলখানিতে এরশাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
এ সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের কর্মময় জীবনচিত্র রোমন্থন করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, জাতীয় পার্টির নেতারা এরশাদকে রংপুরে দাফন করে খুব ভাল কাজ নিয়েছেন। এরশাদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন অমায়িক ও মার্জিত রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর কাছে আমাদের সবার শিষ্টাচারের বিষয়গুলো শেখার রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন অথচ কারো সঙ্গে কখনোই খারাপ ব্যবহার করতেন না। তাঁর আচরণ এবং সৌজন্যবোধ দেশে মানুষের কাছে শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। ভুলত্রুটি মানুষের হয়; কিন্তু তিনি ভুলের চেয়ে ভাল কাজ বেশি করেছেন। তিনি আরো বলেন, এরশাদ সাহেবের সাথে রাজনৈতিক নীতি আদর্শে মতবিরোধ থাকলেও ব্যাক্তিগত ভাবে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তিনি পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরে আসার পর থেকে তাঁর সাথে আমার সম্পর্ক। তিনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন।
নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একজন খাঁটি মুসুলমান হিসেবে জীবন যাপন করতেন। তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার সময় ইসলামের জন্য যা করেছেন; সে জন্য আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি এরশাদের দল জাতীয় পার্টি করিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হতো। উনার (এরশাদ) মতো বিনয়ী মানুষ রিবল। তিনি অনেকগুলো যুগান্তকারী কাজ করেছেন। তিনি সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংযোজন করেছেন। মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। জুম্মাবার তথা শুক্রবারে সরকারি ছুটি, মসজিদের বিদ্যুৎবিল মওকুফ করেছেন। ইসলামের জন্য তিনি যা করেছেন সে কারণেই আল্লাহ তার সকল গোনাহ মাফ করে দেবেন এবং তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শুধু আমার বড় ভাই ছিলেন না। উনি আমার পিতা উনি আমার শিক্ষক ছিলেন। ওনার কোলে বসে সিনেমা দেখেছি, হাতে ধরে চামুচ দিয়ে খাওয়ায় এবং কিভাবে টাই বাঁধতে হয় শিখিয়ে দিয়েছেন। আমি যখন রাজনীতিতে আসি তখন কিভাবে পরিবেশ ট্যাকেল দিতে হয়, সংকট মোকাবেলা করতে হয় শিখিয়েছেন। আমাদের মাথার উপর ছাতাটি সরে গেছে, বট গাছটি আর নেই। আপনারা ওনার জন্য দোয়া করবেন। কোনো ভুলত্রুটি করে থাকলে মাফ করে দেবেন। জিএম কাদের আরো বলেন, আজকে ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলার যে অর্জন তার বীজবপন করেছেন উনি (এরশাদ) বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা করে। আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই ওনার বীজটাকে লালন করার জন্য। আওয়ামী লীগ গ্রামকে শহর করার কথা বলছে এর গোড়াপত্তন করেছেন এরশাদ উপজেলা প্রতিষ্ঠা করে। একটি মানুষের অবদান অর্জন বুঝা যায় তার মৃত্যুর পর জানাজায় লোক সমাগম দেখে। ওনার চারটি জানাজা হয়েছে কোনটিতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। একটির চেয়ে আরেকটি সমাগম বেশি হয়েছে। এতে বুঝা যায় ওনার নীতি কর্ম মানুষ গ্রহণ করেছিলেন।
এরশাদ পরিবারের সদস্য হিসেবে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, আমার ভাই যখন হাসপাতালে তখন প্রতি ঘণ্টায় খোঁজ খবর নিয়েছেন। সম্মিলিত সমারিক হাসপাতালের ডাক্তাররা রাতদিন কাজ করেছে। ওনারা নিজের বাবার মতো করে সেবা করেছেন। এ জন্য তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।